নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারা দেশে সাড়ে ৩৪ লাখ কর্মজীবী শিশু রয়েছে। যার মধ্যে ২৯ লাখ ৪৮ হাজার পূর্ণকালীন ও ৫ লাখ ২ হাজার খ-কালীন কাজ করে। এই কর্মজীবী শিশুদের দুই তৃতীয়াংশ বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না। স্কুলে যায় না সাড়ে ৩৪ লাখ কর্মজীবী শিশুর মধ্যে ২১ লাখ শিশু।
আজ রোববার রাজশাহীর নগরীর একটি রেষ্টুরেন্টে এ গোল টেবিল বৈঠকে আন্তর্জাতিক সেচ্ছাসেবী, ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ ও উন্নয়ন সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) এর আয়োজনে শিশু শ্রম প্রতিরোধে আমাদের করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেশে শিশুশ্রম ও শিশু শ্রমিকের এ চিত্র ওঠে আসে।
পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০০২-০৩ অনুসারে শিশুশ্রমের সংখ্যা ছিল ৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন যেখানে ছিল ৫ থেকে ১৭ বৎসর বয়সি শিশু শ্রমিক। তাছাড়াও Wikipedia Child Labor in Bangladesh অনুসারে শিশুশ্রমের সংখ্যা ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন, যেখানে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু (যাদের বয়স ৫ থেকে ১৪) কোন না কোন শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে।

বাংলাদেশের সামগ্রিক কর্ম পরিধির (total workforce) ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু শ্রমের দ্বারা অর্জিত হচ্ছে। কোন কোন সমীক্ষায় দেখা যায় ৬২ শতাংশ শিশুশ্রম গ্রামীণ কৃষিতে প্রয়োগ হচ্ছে, ১ লাখ ৪৯ হাজার শিশু শ্রমিক নিকৃষ্ট ধরনের কাজে নিয়েজিত রয়েছে। ১ দশমিক ৪ শতাংশ ঝুকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খাতের মধ্যে গ্রামীণ কৃষিখাতে বিরাট সংখ্যক শিশুশ্রমিক বিনা বেতনে কাজ করে থাকে। গ্রাম এবং শহর উভয়স্থানে ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিশু দিন মজুর, ১৪ শতাংশ বিক্রয় কর্মী এবং ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবহনখাতে নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে লফসের তথ্যে হোটেলে শতকরা ২০ জন, রেস্তোরা- ৪০ জন, চা ষ্টল- ৫০ জন শিশু শ্রমে নিয়োজিত। পরিবহন হিউম্যান হলারে শতকরা ৫০ জন, অটো বাইকে- ১০ জন, আন্তঃ জেলা বাসে- ২৫ জন, রিক্সায় শতকরা ০৫ জন শিশুশ্রমে নিয়োজিত।
ওয়ার্কসপে শতকরা ৫০ জন শিশু, কারখানায় শতকরা ২০ জন শিশু, ভাংরী কাজে শতকরা ৬০ জন শিশু শ্রমে নিয়োজিত।
(তথ্য সুত্রঃ মালিক কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন, সরজমিন জরিপ।)
গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুশ্রম, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের নিয়ে একটি গবেষনা করে। বিএসএএফ বরিশাল, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট শহরের এক হাজার ২৩০ জন শিশু শ্রমিকের ওপর বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এই জরিপ কাজে রাজশাহীতে লফস ১৮০ টি বাসায় গৃহকর্মে নিয়োজিত শিশুদের উপর জরিপ পরিচালনা করে। প্রাপ্ত জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায় গৃহকর্মে নিয়োজিত ১৮০ জন শিশুর ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ শারীরিক এবং ৫৭ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার। ১৮ শতাংশ শিশু গৃহশ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথিবৃন্দ বলেন সারা দেশে শিশুশ্রমের মত একটি অমানবিক ঘটনা খুবই সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কখনও তারা মজুরির মাধ্যমে কখনও বা মুজুরীবিহীনভাবে কাজ করে থাকে।
অনুষ্ঠানে লফসের সহসভাপতি আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, লফরের নির্বাহী পরিচালক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মহিলা কমিশনার শাহনাজ পারভীন লাকী। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শ্রম ও কলখারখানা অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শক কামরুল হাসান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রুবিনা ইয়াসমিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ডিপিএ প্রোগ্রাম অফিসার দেবাশীষ। এ গোল টেবিল বৈঠকের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, রাজশাহী জজ কোর্টের আইনজীবি ও লফস এর আইন সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাহিনুল হক মুন।









