সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
এইচটিসি স্মার্টফোন ব্যবসা নিয়ে খারাপ সময় পার করছে। তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টানা কয়েক বছর ধরে লোকসানে রয়েছে তাইওয়ানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। ডিভাইস বাজারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেট দিয়ে ভালো ব্যবসা করলেও পিছিয়ে পড়েছে স্মার্টফোন বিক্রিতে। এ পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের পরিবর্তে মাঝারি দাম এবং প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে ব্যবসা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর ডিজিটাইমস।
চলতি বছর আগস্টে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগ বন্ধ করতে যাচ্ছে এইচটিসি। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্মার্টফোন ব্যবসাকে পুরোপুরি বিদায় জানানোর পরিবর্তে প্রতি বছর হাতেগোনা কয়েকটি প্রিমিয়াম ডিভাইস উন্মোচনের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে এমন ডিভাইস বাজারে ছাড়া হতে পারে।

এইচটিসির প্রেসিডেন্ট ড্যারেন চেন বলেন, আমরাও স্মার্টফোন ব্যবসাকে বিদায় জানাচ্ছি না। তবে আগামী বছর থেকে সাশ্রয়ী স্মার্টফোনের পরিবর্তে মাঝারি মানের এবং হাই-এন্ড স্মার্টফোনে গুরুত্ব দিতে যাচ্ছি। এটাকে স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগকে পুনরুজ্জীবিত করার কৌশল হিসেবে দেখছি। আশা করছি, ২০১৯ সালে বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে আমাদের অংশীদারিত্ব বাড়বে এবং এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসা বিভাগ মুনাফার ধারায় ফিরতে সক্ষম হবে।
সম্প্রতি তাইওয়ানে এক সম্মেলনে ড্যারেন চেন বলেন, এইচটিসি আগামী বছর তাদের ফ্ল্যাগশিপ ইউ১২ প্লাস লাইনআপের ডিভাইস সরবরাহ অব্যাহত রাখবে। এখন সিরিজটির পণ্যের লাইফসাইকেল বাড়াতে জোর দেয়া হচ্ছে।
ডিজিটাইমসের তথ্যমতে, প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে ইউ১২ প্লাস ডিভাইসটি দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এইচটিসি। বৈশ্বিক বাজারে ছয় মাস আগে উন্মোচিত এ ডিভাইসকে এখনো সবচেয়ে ভালো মানের ডুয়াল লেন্স ক্যামেরার স্মার্টফোন মনে করা হচ্ছে। ডিভাইসটির ১২৮ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ সংস্করণের ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে। গত নভেম্বরে ইউ১২ প্লাসের উৎপাদন বাড়িয়েছে এইচটিসি। মাঝারি মানের ও প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি ভিআর হেডসেটের জন্য ‘ভাইভপোর্ট’ ভিআর অ্যাপ স্টোর ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে এইচটিসি। এ অ্যাপ স্টোরকে ভিআর হেডসেটের পূর্ণাঙ্গ অ্যাপ প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
ইউ১১ প্লাসের পরবর্তী ও উন্নত সংস্করণ হিসেবে গত মে মাসে ইউ১২ প্লাস উন্মোচন করে এইচটিসি। ডিভাইসটিতে বেশকিছু উদ্ভাবনী প্রযুক্তি যুক্ত করা করানো হয়। এর প্রেসার সেনসিটিভ বাটন ডিভাইসপ্রেমীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর-সংবলিত ডিভাইসটি এখনো বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বাজারে সমাদৃত হচ্ছে।
গত বছর সেপ্টেম্বরে ১১০ কোটি ডলারে এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসার আংশিক অধিগ্রহণ করে গুগল। চলতি বছরের শুরুর দিকে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে এ অধিগ্রহণের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে এইচটিসির গবেষণা এবং উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগের অর্ধেক বা প্রায় দুই হাজার কর্মী গুগলের সিলিকন ভ্যালি কার্যালয়ে যোগদান করেছেন।
এইচটিসি গত অর্ধ দশকে ৭৫ শতাংশ বাজারমূল্য হারিয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবসায় ভালো করতে না পারায় বাজারমূল্যে পিছিয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ কয়েক প্রান্তিক উচ্চ প্রযুক্তির ভিআর হেডসেট দিয়ে ব্যবসা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেও খুব একটা সফল হয়নি।
বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, এইচটিসির ফোন ব্যবসা এখনো ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। এর ইউ১১ প্লাস ও ইউ১২ প্লাস বৈশ্বিক হ্যান্ডসেট বাজারে ভালো সাড়া ফেলেছে। সামগ্রিক দিক বিচেনায় এইচটিসির স্মার্টফোন ব্যবসাকে বিদায় জানানোর কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বরং নতুন বছরে ডিভাইস ব্যবসায় আটঘাট বেঁধে নামার সম্ভাবনা রয়েছে এইচটিসির।









