জাতীয়

সাগরের মাঝে জেগে উঠছে সুন্দরবনের আদলে নতুন ভূমি

নিউজ ডেস্ক৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

দেশের সামনে জেগে ওঠা অপার সম্ভাবনা প্রকৃতির আশীর্বাদে জেগে উঠছে একটি ভূখণ্ড। কক্সবাজার থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরের মাঝে জেগে উঠছে সুন্দরবনের আদলে নতুন ভূমি। যেখানে তৈরি হবে নতুন শিল্প ও পর্যটনকেন্দ্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে হাল ফিরবে দেশের অর্থনীতির। স্বপ্নের জাল বুনছে দেশের মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতে ওই এলাকার গ্রামীণ আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। অর্থনৈতিকভাবে প্রচুর লাভবান হবে দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ সাগরে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা দীর্ঘদিন ধরে বলছেন পরিবেশবাদীরা। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গোপসাগরের বুকে আরেক টুকরো বাংলাদেশ আশা জাগিয়েছে। এসব নতুন দ্বীপ ও চর নিয়ে সরকারের নতুন নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। যেভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে দ্রুত কমে যাচ্ছে কৃষিজমি। শিল্পায়নে জমির স্বল্পতা ঘটছে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে সাগরের বুকে জেগে ওঠা এই ভূমি বাংলাদেশের জন্য এক নতুন সম্ভাবনা। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দশক আগেও বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির অংশ ছিল নোয়াখালীর চর নাঙ্গুলিয়া।

সেটি এখন সমৃদ্ধ একটি গ্রাম। ১০০ বছর ধরে পদ্মা, মেঘনা আর ব্রহ্মপুত্রের বয়ে আনা কোটি কোটি টন পলি যোগ হচ্ছে এই ভূখণ্ডে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে চর আর দ্বীপগুলোর ভূমির মান অনেক উন্নত হবে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে। সে সময় প্রয়োজন অনুসারে শিল্প ও পর্যটন খাত আর পরিকল্পিত আবাসনের ক্ষেত্রে এসব চর আর দ্বীপগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন, স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার দারিদ্র্য হ্রাস করা সম্ভব হবে। সম্ভবনার জায়গাগুলে চিহ্নিত এরইমধ্যে কক্সবাজার থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সাগরের মধ্যে জেগে উঠছে সুন্দরবনের আদলে নতুন ভূমি। সেখানে তৈরি হচ্ছে নতুন পর্যটনকেন্দ্র। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের পূর্বাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রক্ষা করবে এই বন। নোয়াখালীতেও বইছে উন্নয়নের জোয়ার। ক্রস ড্যাম প্রকল্পের মাধ্যমে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা হবে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি।

এতে ব্যয় হচ্ছে ৫৮৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সহজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পাবে কৃষিজমি, বাড়বে ফসলের উৎপাদন। স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বাড়বে কর্মসংস্থান। সোজা কথায় গ্রামীণ অর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে। জানা গেছে, নোয়াখালী জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে উড়িরচর। এই উদ্যোগ সফল করতে সমুদ্র থেকে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য উড়িরচর-নোয়াখালীতে নির্মাণ করা হবে ক্রস ড্যাম। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচর উপজেলায় সাত কিলোমিটারেরও বেশি লম্বা ক্রস ড্যাম ও টাই বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে উড়িরচরের সঙ্গে নোয়াখালীর মূল ভূখণ্ডের স্থায়ী যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে। এ জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

সমুদ্র হবে বাংলাদেশের সম্পদ উল্লেখ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম জানিয়েছেন, সমুদের বুকে জেগে উঠছে হাজার হাজার একর জমি। এগুলোই হবে আগামী বাংলাদেশের সম্পদ। এ বিষয়ে নিয়ে সরকারের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্র থেকে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ওই এলাকার গ্রামীণ আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে।

ট্যাগ: