লাইফ স্টাইল

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার নতুন উপায় ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’, কেন আলোচনায় নতুন এই সম্পর্ক?

নিউজ ডেস্ক১৩ নভেম্বর ২০২৫৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞায় পরিবর্তন এসেছে। তেমনি সম্পর্ক নিয়ে ধারণায়ও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে সারাক্ষণ বেঁধে বেঁধে থাকার কথা শোনা যেত, আজকাল সেই মানুষজনকেই বলতে শোনা যায়, ‘জিতনে দূর, উতনে পাস’। তাই দীর্ঘ সময় সম্পর্ক চালিয়ে নিয়ে যেতে সাময়িক বিরতির জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

আর তার নতুন উপায়ও হাজির হয়েছে, যার পোশাকি নাম ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’।
এয়ারপোর্ট শব্দটি মাথায় আসলে সবার আগে মনে আসে ভ্রমণের কথা। আর ভ্রমণ মানেই কোনো না কোনো নাটকীয়তা! অনেক সময় তার সূত্রপাত হয় বিমানবন্দরেই। এখানেই দেখা যায় সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত—কোথাও প্রেম নিবেদন, কোথাও বিদায়, কোথাও আবার অশ্রুসিক্ত পুনর্মিলন।

তবে এই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ কিন্তু কোনো আইনগত বিচ্ছেদ নয়। বরং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার এক অভিনব উপায়, বলছেন এক ব্রিটিশ সাংবাদিক।
জেন-জিদের হাত ধরে নিত্যনতুন শব্দ ও শব্দবন্ধ এখন অভিধানেও জায়গা করে নিচ্ছে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’।

এটি নেহাত কোনো বুলি নয়, বাস্তব জীবনে ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্সে’র রাস্তা ধরছেন অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতাও খোলাখুলি তুলে ধরছেন। কিন্তু এই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ আসলে কী?

ব্রিটিশ ভ্রমণ লেখক হিউ অলিভার সর্বপ্রথম এই শব্দটি ব্যবহার করেন। নিজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ মানে হলো—সিকিউরিটি চেক পার হওয়ার পর সাময়িকভাবে আলাদা হয়ে যাওয়া এবং কিছুক্ষণ পরে বিমানে গিয়ে আবার দেখা হওয়া। এর মানে সত্যিকারের ছাড়াছাড়ি নয়, বরং বেড়াতে যাওয়া যাতে বিভীষিকার পরিণত হয়, একে অন্যের আচরণে যাতে তিতিবিরক্ত না হয়ে ওঠেন, তাই সাময়িক আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্তকেই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ বলা হচ্ছে।

অলিভার জানান, তিনি ও তার বাগদত্তা একেবারে বিপরীত স্বভাবের মানুষ। তার সঙ্গিনীর পছন্দ ধীরে ধীরে ডিউটি-ফ্রি দোকান ঘুরে দেখা, আর তিনি পছন্দ করেন জানালার ধারে বসে বিমান দেখা। এই পার্থক্যের কারণে তৈরি হওয়া ছোটখাটো মনোমালিন্য থেকে বাঁচতেই জন্ম নেয় ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’-এর ধারণা।

অনেকেই এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছেন। কারণ, বিমানবন্দর এমন এক জায়গা, যা উত্তেজনাপূর্ণ হলেও চাপেরও কেন্দ্রবিন্দু। কেউ আগে থেকে বোর্ডিং গেটে গিয়ে বসতে ভালোবাসেন, কেউ আবার শেষ ডাক না পাওয়া পর্যন্ত আরামে বসে থাকেন—এই ছোটখাটো পার্থক্যই হয়ে উঠতে পারে ঝগড়ার কারণ, যা ছুটির শুরুতেই মেজাজ খারাপ করে দিতে পারে।

অনেকে মনে করেন, দূরে কোথাও বেড়াতে গেলে সাধারণত বিমানযাত্রাই বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু জিনিসপত্র গোছানো থেকে টিকিট বুকিং, হোটেল বুকিং, ঝামেলার শেষ থাকে না। তার পর আবার বিমানবন্দরে পৌঁছে চেক ইন, বোর্ডিং পাস সংগ্রহের ঝামেলা থাকে। এমন পরিস্থিতিতে পান থেকে চুন খসলেই মেজাজ বিগড়ে যেতে পারে। এতে সবার আগে পরস্পরের ওপরই রাগ গিয়ে পড়ে স্বামী-স্ত্রীর। ফলে একসঙ্গে বিমানযাত্রাও যেমন অসহ্য় হয়ে ওঠে, তেমনই গন্তব্যে পৌঁছেও পরস্পরের উপস্থিতি তিক্ত লাগে।

আর তাই ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্স’ বেছে নিচ্ছেন অনেকে দম্পতি। এক্ষেত্রে হাসিমুখে পরস্পরের থেকে সাময়িক বিরতি নিচ্ছেন তারা। অর্থাৎ চেক ইন, সিকিউরিটি পর্ব পেরিয়েই ইচ্ছাকৃতভাবে আলাদা হয়ে যাচ্ছেন। কেউ বাড়তি সময়ে স্কিন কেয়ার করে নিচ্ছেন, কেউ পছন্দের খাবার জোগাড়ে বেরিয়ে পড়ছেন, কেউ আবার আলাদা একটু জিরিয়ে নিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অনেকেই।

তাদের মতে, কিছুটা সময় একা থাকার ফলে মন শান্ত থাকছে, সব ভুলে বেড়াতে যাওয়ার আনন্দ হচ্ছে। একটা সময় পর প্রিয়জনের অভাবও বোধ হচ্ছে। ফলে বিমান ছাড়ার আগে ফের একত্রিত হচ্ছেন যখন, সব তিক্ততা কেটে গিয়ে আনন্দেই যাত্রা করতে পারছেন। ‘এয়ারপোর্ট ডিভোর্সে’র দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।

অলিভার দাবি করেছেন, এই সাময়িক দূরত্ব তার সম্পর্কে নতুন স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে এই পদ্ধতি সবার জন্য কার্যকর নাও হতে পারে। বিশেষ করে যদি দম্পতির সঙ্গে সন্তান থাকে, তাহলে আলাদা হয়ে থাকার এই কৌশল খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়।

শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের মূল মন্ত্র একটাই—বোঝাপড়া ও ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান। ভালোবাসা মানে একসঙ্গে পথ চলা, তবে মাঝে মাঝে একটু দূরত্বও জরুরি।