সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
শীতকালীন উৎসবের মৌসুমে পরিবারের আয়োজন, কাজের চাপ এবং কমতে থাকা দিনের আলো আমাদের মধ্যে ক্লান্তি এনে দেয়। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীরে ক্লান্তি আসে। এসব ক্লান্তি কাটিয়ে কীভাবে নিজেকে শক্তিশালী করবেন তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিকল্পনা ও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে এই ক্লান্তি কাটানো সম্ভব।

‘দ্য স্পোর্টস নিউট্রিশন প্লেবুক’ বইয়ের লেখক পুষ্টিবিদ অ্যামি গুডসন এমন কিছু কার্যকর কৌশলের কথা বর্ণনা করেছেন, যেগুলো ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। সেই কৌশলগুলো হচ্ছে-
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে দিন শুরু করুন
গুডসন বলেন, প্রোটিনে ভরপুর একটি খাবার দিয়ে দিন শুরু করেন। এটি আপনার পেশীকে শক্তি যোগাবে এবং রক্তের শর্করা স্থিতিশীল রাখবে।
উদাহরণস্বরূপ, বিফ সসেজ স্যাভরি ওটসের কথা বলা যায়। এটি প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ। এটি সকালের শক্তি যোগানোর পাশাপাশি দীর্ঘক্ষণ আপনাকে সতেজ রাখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে এক ঘণ্টার মধ্যে খাবার খাওয়া বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
রক্তের শর্করা স্থিতিশীল রাখুন
প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন ও ফাইবারযুক্ত স্ন্যাকস রাখার পরামর্শ দেন গুডসন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, দইয়ে বেরি ও গ্রানোলা, পূর্ণ শস্যের ক্র্যাকারসের সঙ্গে চিজ বা বিফ জার্কি ও ফল। সারা দিন রক্তের শর্করা স্থিতিশীল থাকলে মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় গ্লুকোজ সরবরাহ হয়। এটি মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা বাড়ায়।
নিয়মিত ব্যায়াম করুন
গুডসনের মতে, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম করার লক্ষ্য স্থির করুন। একটি ব্রিস্ক ওয়াক বা হালকা যোগ ব্যায়াম শীতকালেও কর্মক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন
গবেষণায় দেখা গেছে, শীতকালে ৪৮% মানুষ আগে ঘুমাতে যান এবং ৪১% বেশি ক্লান্তি অনুভব করেন। প্রতিদিন ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। গুডসন বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়ক। এটি ক্লান্তি কমায় এবং সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি কমায়। ঘুমের আগে একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন, যেমন বই পড়া বা হালকা স্ট্রেচিং।
পানি পান করুন
গুডসনের মতে, পানি পান শক্তি বজায় রাখার একটি সহজ উপায়। দিনে ৮-১০ কাপ পানি পান করুন। শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ায় এটি আরো গুরুত্বপূর্ণ। পানি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ ও পরিবহনে সাহায্য করে।
সূত্র: নিউ ইয়র্ক পোস্ট









