নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী রবিবার কপোতাক্ষ ট্রেনে নতুন বগির উদ্বোধন করতে রাজশাহী আসছেন রেলস্টেশনে আসছেন রেলমন্দ্রী মুজিবুল হক। কিন্তু এর জন্য প্রায় ৭০লাখ টাকা খরচ করে ‘পরিচ্ছন্নতা’ কাজ করছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেই কাজ করা হচ্ছে কোনো টেন্ডার ছাড়াই সরকার দল সমর্থিত ঠিকাদারদের দিয়ে। আর সেই কাজের জন্য ১৫ পারসেন্ট করে কমিশন আগেই নেওয়া হচ্ছে ঠিকাদারদের নিকট থেকে।
এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে রেলওয়ের অন্য ঠিকাদারদের মাঝে। গত ডিসেম্বরেও প্রায় কোটি টাকা খরচ করে মহাপরিচালক আমজাদ হোসেনের আগমন উপলক্ষে রাজশাহী স্টেশনকে সাজানো হয়েছিল। সেবারও কোনো টেন্ডার ছাড়াই কাজগুলো করা হয়েছিল। এর মধ্যে লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা ফুল বাগানগুলো এখন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। আবার নতুন করে ৭০ লাখ টাকা খরচ করে চলছে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ প্রাচীর সংস্কারের কাজ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর কয়েকজন ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান, রাজশাহী-খুলনা রুটে চলাচলকারী কপোতাক্ষ ট্রেনে নতুন বগি লাগানো হচ্ছে। এগুলো ভারত থেকে আমদানি করেছে সরকার। এরইমধ্যে বগিগুলোতে রঙের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী রোববার এই ট্রেনের বগি উদ্বোধন করতে রাজশাহীতে আসছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এজন্য চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। প্লাটফর্ম থেকে শুরু করে গোটা স্টেশন ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করা হচ্ছে। প্লাটফর্মেও ছাউনি থেকে পুরো স্টেশনই রঙ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লাইনের ঘাস তুলে ফেলে পরিস্কার করা হচ্ছে পাথর।
কালো রঙ দিয়ে ঢেঁকে দেয়া হচ্ছে স্লিপারগুলো। স্টেশনের সামনে ফুলের বাগানেও চলছে পরিচর্যা। নতুন করে আনা হয়েছে ফুলের গাছ। এছাড়াও স্টেশনের বাইরে রেল ভবনের সীমানা প্রাচীরসহ গোটার ভবনই ধুয়ে মুছে চকচকে করা হচ্ছে। সেখানকার বাগানের জন্যেও ফুলের গাছ কেনা হয়েছে। এসবই করা হচ্ছে অর্থ লোপাটের হাতিয়ার হিসেবে। বিনা টেন্ডারেই প্রায় ৭০ লাখ টাকার এসব কাজ করছেন রাজশাহী মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলীসহ সরকার দলের স্থানীয় নেতারা।
বিনা টেন্ডারে কাজ করার কথা স্বীকার করে মহানগর যুবলীগের সভাপতি রমজান আলী বলেন, ‘আমি প্লাটফর্মের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রঙের কাজ করছি। পরে বিল দেবে রেল কর্তৃপক্ষ। সবমিলিয়ে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টাকার কাজ হবে হয়তো।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজ পাওয়া আরেক ঠিকাদার অভিযোগ করে জানান, কাজ দিলেও ১৫ ভাগ টাকা পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাকে আগেই দিতে হয়েছে। কাজ শেষে সমস্ত টাকা পরিশোধ করা হবে। তাই আগেই কমিশনের টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।
তবে সব অভিযোগই অস্বীকার পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, স্টেশন কমপ্লেক্স ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে আর রং করা হয়নি। মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন উপলক্ষে রঙের কাজটি তাই করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে ১০-১৫ লাখ টাকার কাজ হবে হয়তো। কাজ শেষে ঠিকাদারদের বিল হাতে পাওয়া গেলেই বলা যাবে কত টাকার কাজ হচ্ছে।
স/আর









