রাজশাহী

রুয়েট নিয়ে হতাশ শিক্ষার্থীরা

নিউজ ডেস্ক১৩ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

পাবলিক চারটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই আকাশের চাঁদ পাওয়ার মত। এখানে আসা ছাত্রদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অনেক প্রত্যাশা থাকে। যার অনেক কিছুই পুরণ হয় না। নিজের ভার্সিটিকে নিয়ে অভিযোগ মানুষ তখনই লিখে যখন সে হতাশার শেষ সীমানায় পৌঁছে যায়। তাই কিছু অভিযোগ তুলে না ধরলেই নয়।

 
যেখানে একজন শিক্ষার্থীর ভর্তির ছয়মাসের মধ্যে হল পাওয়ার কথা, সেখানে একবছর ছয়মাসেও বাইরে ম্যাসে থাকতে হয়। কারণ নতুন হল তৈরির কাজ বছরের পর বছর পার হলেও শেষ হয় নাহ। রাজনৈতিক ভাবে সিট দখল তো আছেই।

 
ভবন গুলোই আধুনিক স্থাপত্যশৈলী তো দূরের কথা দেখলে মনে হয় যেন কোনও প্রকৌশল বিদ্যালয় নয় কলোনিতে থাকতে এসেছি। ঝোপঝাড় গুলো বিশেষ অনুষঙ্গ ব্যতীত কখনোই পরিস্কার করা হয় না।
ক্লাসরুমে এখনো ব্লাকবোর্ড রয়েছে। আর হাতে গোনা যেসব বিভাগে হোয়াইটবোর্ড রয়েছে সেগুলোতেও হোয়াইটবোর্ডের জন্য মার্কার কেনার জন্য আমাদের পকেট থেকে টাকা দেওয়া লাগে।

 
কিছু শিক্ষক হাতে নোট জাতীয় কিছু নিয়ে ক্লাশে প্রবেশ করেন, কেউ কেউ সেটা থেকে হুবহু কপি তুলে দেন ছাত্ররা সেটা মুখ বন্ধ করে খাতায় তোলে। ছাত্র বুঝুক আর না বুঝুক তাতে কিছু যায় আসে না।
সারাদেশজুড়ে যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ভাবনা চলছে। তখন প্রকৌশল বিদ্যালয় হওয়া সত্বেও রুয়েটে ওয়াইফাই নেই। সতিই অদ্ভুত। রুয়েটের ওয়েবসাইট এখনও টেস্টিং (পরিক্ষাধীন) আছে।

 
সিএসই ডিপার্টমেন্টের ল্যাবগুলোর কম্পিউটারের উইন্ডোজ লোড নেয় না। ডিজিটাল যুগে অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের এক্সপেরিমেন্ট করা লাগে।

 
শুধু রুয়েট না বাংলাদেশের কোনও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ই বিশ্ব মেধাতালিকায় ১০০০ এর মধ্যেও নেই।
হলগুলোর পরিচালনা ব্যবস্থা জঘন্য। খাবার দেওয়া হয় নিম্নমানের। ডালে পানির পরিমাণ বেশী, মাছ মাংসের টুকরো গুলো এত ক্ষুদ্র না দেখলে বোঝানো সম্ভব না। এরকম খাবার দিয়ে শিক্ষার্থীদের দৈনিক পুষ্টি চাহিদা পুরণ করা সম্ভব নয়। ক্যাফেটেরিয়ায় খাবারের দাম বাইরের তুলনায় বেশী।

 
নিজেদের মাঠে নিজেরাই খেলতে পারে না এখানকার শিক্ষার্থীরা। জিমনেসিয়ামে পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতির অভাব। সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বই নেই। পড়ার জন্যে বিকেলের পর লাইব্রেরি খোলা থাকে না।

 
শিক্ষকরা ইচ্ছে করলেই যে কাউকে ব্যাকলগের(ফেল) ঘানি টানাতে পারে, সিজিপিএর বারোটা বাজিয়ে দেয়ার হুমকি দিতে পারে। কেউ এসব নিয়ে প্রশ্ন তুললে, আন্দোলন করলে প্রশ্ন খারাপ করে খাতা খারাপ দেখে সহজেই ব্যাকলগ দিয়ে দেয়। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া সত্ত্বেও আমাদের সার্টিফিকেট এ একটু ভুলের কারণে আয়েল্টস্ করা লাগে। আমাদের ভার্সিটিতে কোনও জব ফেয়ার হয়না। আমাদের ভার্সিটির স্কলারশিপ রেট কম।

 
বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের টাকা নেওয়ার পরও এতদিনেও কেন অনুষ্ঠান হয়না?  অডিটোরিয়াম এর এতগুলো এসি থাকা সত্ত্বেও কোনও প্রোগ্রামে তা চালু করা হয়না
প্রাইভেট ভার্সিটিতে মাসে দশবারো হাজার টাকা খরচ করে যেসব সুবিধা ভোগ করে, আমাদের জনপ্রতি সত্তর হাজার খরচ করেও তার অর্ধেক সুবিধা নিশ্চিত করা যায়না এক অজানা কারণে।

 
নতুন প্রবর্তিত ৩৩ ক্রেডিট: বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে বিভিন্ন মানের ক্রেডিট অর্জন করতে হয় এক ইয়ারে। ইটিই ডিপার্টমেন্টের এক ইয়ারে ৩৭ ক্রেডিট পরীক্ষা দিতে হয় তার মধ্যে ৩ ক্রেডিটের দুইটা বিষয়ে ফেল করলে সে পরের বছরে উঠতে পারবে না। নিয়মটি এরকম না করে পারসেন্টেজ অব ক্রেডিট নির্ধারণ করে দিলে কেউ বঞ্চিত হত না। এই সংক্রান্ত আন্দোলন করা হলে  শিক্ষকেরা ব্যাকলগের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের আন্দোলন থেকে সরিয়ে আনে। এবং একটি পুরো ব্যাচকে বন্ধ ঘোষণা করে। আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসা স্বত্ত্বেও ক্লাস শুরু করা থেকে বিরত থাকে।

 
স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান বলে কি জবাবদিহিতার কিছু নেই। আই কুইট লিখে কেউ যতদিন না আত্মহত্যা করবে ততদিন কি পরিবর্তন আসবে না?

রুয়েটের শিক্ষার্থীরা