নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষকদের ৭টি স্থায়ীসহ ১০টি পদ পূরণে খোদ সরকারদলীয় শিক্ষকরা বাধা সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুইবার প্ল্যানিং কমিটির সভায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচ্যসূচি থাকলেও তা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার প্ল্যানিং কমিটির সভা ডাকা হলেও চিঠি গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে।
বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনক্ষণ ৩ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল। এর আগে ৩০ অক্টোবর এ সংক্রান্ত চিঠি কমিটির সদস্যদের কাছে পাঠান বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক জিন্নাত আরা বেগম। তবে বিভাগীয় সভাপতি বাদে প্ল্যানিং কমিটির পাঁচজন সদস্যদের মধ্যে মাত্র একজন ওই চিঠি গ্রহণ করেন। চিঠি গ্রহণকারী ড. মো. সাইফুল ইসলাম এর আগে বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। সেসময় তিনি একই বিষয়ে সভা করেও শিক্ষক নিয়োগে সুপারিশ করতে সম্মতি আদায় করতে ব্যর্থ হন।

অপরদিকে সর্বশেষ সভার জন্য চিঠিগ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো শিক্ষকরা হলেন, অধ্যাপক শেখ ম. নূরউল্লাহ, অধ্যাপক ড. এ এন এম জাহাঙ্গীর কবির, অধ্যাপক ড. জাফর সাদিক ও অধ্যাপক ড. অহিদুল ইসলাম। এঁদের মধ্যে অধ্যাপক কবির জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে বিভাগীয় সূত্রগুলো বলছে। বাকি তিনজন সরকারপন্থি ‘প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজে’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
তাঁদের মধ্যে ড. জাফর সাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসনের আমলে শের-ই-বাংলা হলের প্রাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন অধ্যাপক ড. অহিদুল ইসলাম। এর আগেও প্ল্যানিং কমিটির এই সদস্যদের আপত্তির মুখে দুইবার শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি আলোচ্যসূচি থেকে প্রত্যাহার হয়।
বিভাগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জানান, ২০১৪ সালের ২২ জানুয়ারি প্ল্যানিং কমিটির সভায় শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি উঠলেও আলোচ্যসূচি থেকে তা প্রত্যাহার করা হয়। সেসময় অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। পরে অধ্যাপক জিন্নাত আরা সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগে উদ্যোগী হন। তাঁর ডাকা গত ৮ মে প্ল্যানিং কমিটির সভায় একই বিষয় আলোচ্যসূচি থেকে ফের প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটে।
এর আগে বিভাগটিতে সর্বশেষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় ২০১০ সালের ২ জানুয়ারি। এরপর দীর্ঘ সাত বছরেও স্থায়ী পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ সময়ের মধ্যে ৭টি স্থায়ী, শিক্ষা ছুটির বিপরীতে দুইটি ও লিয়েনে ছুটির বিপরীতে একটি পদ শূন্য হয়েছে। সাতটি স্থায়ী পদের মধ্যে একটি সহযোগী অধ্যাপক, পাঁচটি সহকারী অধ্যাপক/প্রভাষক এবং একটি প্রভাষক পদ শূন্য হয়েছে। ফলে বিভাগের ২৭ জন শিক্ষকের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ১৭ জন শিক্ষককে দিয়ে বিভাগের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।
বিভাগের একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনে পদ গ্রহণকারী দুই শিক্ষকের নিকট আত্মীয়রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকারদলীয় হলেও কয়েকজন শিক্ষক নিয়োগে একচ্ছত্র আধিপাত্য রাখতে এ মুহূর্তে নিয়োগ চাচ্ছেন না। বর্তমান প্রশাসনের আমলে নিয়োগ যাতে না হয়Ñতার সবধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এতে করে বিভাগের পঠন-পাঠন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম ও অধ্যাপক জাফর সাদিক বিভাগের সভাপতির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সামগ্রিক বিষয়ে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক জিন্নাত আরা বেগম বলেন, ‘এগুলো বিভাগের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এসব নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না।’
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান বলেন, ‘বিভাগের চাহিদা বিবেচনা করে ইউজিসি পদের অনুমোদন দেয়। পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে পদ পূরণ না করা অগ্রহণযোগ্য। তাছাড়া প্রতিবছরই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে যথেষ্ট পরিমাণ মেধাবী শিক্ষার্থী বের হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ভালো শিক্ষকের যথেষ্ট অভাব আছে, এমন পরিস্থিতিতে ভালো ছাত্রদের শিক্ষকতায় উদ্বুদ্ধ করা উচিৎ।
স/আর









