নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগামী ২৩ জুলাই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২৪ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলন নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সম্মেলন হওয়া, না হওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। সম্মেলনের সময় ঘনিয়ে আসলেও সম্মেলনকে ঘিরে দৃশ্যত কোনো প্রস্তুতি না থাকায় দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বিপরতীমুখী বক্তব্যে সম্মেলন আয়োজন নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সম্মেলনকে ঘিরে প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীরা।
ছাত্রলীগ সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুন মাসের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে, আগামী ২৩ জুলাই রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় এবং এবং ২৪ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ২৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরবেশ কিছুদিন পর দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিতে বলেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সম্মেলন আয়োজন নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের নেতারা। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকেও সম্মেলন আয়োজন করার তাগিদা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখনো রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্দেশ না পাওয়ায় এগোতে পারছেন না রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা ।

কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা সিল্কসিটি নিউজকে জানান, দীর্ঘদিন থেকে রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের অঘোষিত নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তার কথা মতোও রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি হয়। তার পছন্দের ব্যক্তিরা নেতৃত্বেও আসেন।
আগামী ২৩ জুলাই রুয়েট এবং ২৪ জুলাই রাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন আয়োজন করতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাগিদা দেওয়া হলেও জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হেনার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নির্দেশ না পাওয়া সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।
রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, আসন্ন তারিখে সম্মেলন আয়োজনের ব্যাপারে অনুমতি নিতে আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেছেন রাবি ও রুয়েট ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা। এমনি কেউ কেউ সরাসরি দেখা করে সম্মেলনের আয়োজনের জন্য লিটনের কাছে অনুমতি চেয়েছেন। এ সময় লিটন বলেছেন,‘ আমি তোমাদের ডেকে নিব।’ কিন্তু সম্মেলনের দিন ঘনিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত ওইসব নেতাদের ডাক পড়েনি।
তবে আসন্ন সম্মেলনের বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বুধবার রাতে মুঠোফোনে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, রাবি ও রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলনের যে তারিখ নির্ধারণ করা আছে, সে তারিখে তা অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত তারিখ পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যদি কোনো কারণে তারিখ পরিবতর্ন হয়, তবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, নিয়মিত ছাত্র, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ইমেজধারী নেতৃত্বে আনা হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের শীর্ষ এক নেতা এস এম জাকির হোসাইন নির্ধারিত তারিখে রুয়েট ও রাবি ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানালেও রাজশাহীর আওয়ামী লীগের কর্ণধার খায়রুজ্জামান লিটন ওই তারিখে সম্মেলন নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
আ.লীগ নেতা খায়রুজ্জামান লিটন বুধবার রাতে সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘২৩ ও ২৪ জুলাই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাথমিক তারিখ হয়েছে। আমার ধারণা এটি পিছিয়ে যাবে।’
এই সম্মেলন পেছালে পরে কবে নাগাদ তা অনুষ্ঠিত হবে-এমন প্রশ্নের লিটন বলেন, পিছিয়ে গেলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তা অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশায় বিপাকে পড়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যার্শীরা।
শীর্ষ দুই পদ প্রত্যার্শীদের কয়েকজন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, আমরা এখন উভয় সঙ্কটে আছি। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে কি, হবে না তা ক্লিয়ার জানতে পারছি না। কেউ বলছে হবে, কেউ বলছে হবে না। সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় প্রস্তুতি নিতে পারছি না। তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায় ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করতে পারছি না। সব মিলিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। আমাদের নেতাদের উচিত বিষয়টি দ্রুত ক্লিয়ার করা। কারণ আর বেশিদিন তো সম্মেলনের নেই।
অপরদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রুয়েট ও রাবি ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকেই দুই শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম বেশি শোনা যাচ্ছে, তারা হলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু, সহসভাপতি মেহেদী হাসান রাসেল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিনারুল ইসলাম, সদস্য সাকিবুল হাসান বাকী প্রমুখ। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এবার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুই পদের বিপরীতে প্রায় অর্ধশতজন প্রার্থী হবেন বলে ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে।
অপরদিকে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এখনো জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৩ সালের ২০ জুলাই মিজানুর রহমান রানাকে সভাপতি ও এসএম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে বর্তমানে মেয়াদোত্তীর্ণ রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুটো পদই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। এদিনই খালিদ হাসান বিপ্লবকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়।
এরপর চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি রানাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে বহিষ্কার করা হয়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয় সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাঞ্জুকে। এরপর থেকে দুইজন ভারপ্রাপ্ত নিয়ে চলছে রাবি ছাত্রলীগ।
অন্যদিকে ২০১৩ বছরের ১২ সেপ্টেম্বর রাইসুল ইসলাম রোজকে সভাপতি ও তৌহিদুর রহমান হিমেলকে সাধারণ সম্পাদক করে রুয়েট ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এক বছরের জন্যে তারা নেতৃত্বে আসলেও দীর্ঘদিনেও তা পরিবর্তন হয়নি।
স/মি









