নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহী কলেজ ও নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজসহ মহানগরীর কয়েকটি সরকারি কলেজের কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি অংশের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের অর্ধশতাধিক শিক্ষক বাসা ও কোচিং সেন্টারে ব্যক্তিগতভাবে পাঠদান করেন। তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ ২৪ থেকে ২৬ বছর ধরে রাজশাহীতে কর্মরত থাকায় প্রাইভেট ও কোচিং কার্যক্রম ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, কিছু শিক্ষক বিভিন্ন কৌশলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাছে প্রাইভেট বা কোচিং করতে উৎসাহিত কিংবা বাধ্য করেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক দাবি করেন, প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষার ফলাফল, উপস্থিতি বা একাডেমিক মূল্যায়ন নিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, যদি এ ধরনের অনিয়ম সত্য হয়ে থাকে, তাহলে তা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ও শিক্ষার মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বলয় তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে।
সচেতন অভিভাবক ও নাগরিকদের একাংশ মনে করেন, সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরিদর্শন, অভিযোগ যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক বদলির ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ বলেন :
যদি কোনো শিক্ষক সরকারি বিধি-বিধানের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। কলেজ প্রশাসন শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।”
নিউ গভমেন্ট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বলেন,
“অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষা অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন,
“সরকারি শিক্ষকদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা রয়েছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত পরিদর্শন করা হয় কি না জানতে চাইলে কলেজ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) বলেন :
কলেজগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার মান পর্যবেক্ষণের জন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।
রাজশাহীর সরকারি কলেজগুলোতে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ, শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ









