রাজশাহীর খবর

রাজশাহীতে শিক্ষককে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়, গ্রেপ্তার ২

নিউজ ডেস্ক৭ জানুয়ারি ২০২৫২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় এক স্কুল শিক্ষককে আটক রেখে মারধরের পর চাঁদা আদায় ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে পুলিশ দুই যুবককে আটক করেছে। অভিযুক্তরা ছাত্রদলের কর্মী বলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার চালাতেন।

আর ভুক্তভোগী ব্যক্তি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন- বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার চৌকিরপাড়া মহল্লার শাহিনুর ইসলাম (২৯) ও আলমগীর হোসেন (২৫)। সোমবার বিকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তাহেরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সোহাইল হোসেন জানান, মুক্তিপণের টাকা, সোনা ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের শিকার শিক্ষকের নাম আক্কাছ আলী। তিনি উপজেলার হামিরকুৎসা ইউনিয়নের অর্জুনপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বসবাস করেন তাহেরপুর চৌকিরপাড়ায়। গত শনিবার রাতে আক্কাছকে অপহরণ করেন শাহিনুর ইসলাম ও আলমগীর হোসেনসহ ৮-১০ জন যুবক। তাকে তারা অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘরে আটক রেখে মারধর করেন অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে তার কাছে থাকা ১৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের কাছ থেকে আরও ১২ হাজার টাকা নেন অপহরণকারীরা। অপহরণকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দুই ভরি সোনা, ৬০০ টাকা মূল্যের দুটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং ফাঁকা চেকে সই নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অপহরণকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানান আক্কাছ আলী। রোববার তিনি বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান দুই আসামিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আক্কাছ আলীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ে জড়িত যুবকেরা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে তারা নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন। তবে তারা ছাত্রদলের কেউ নয় বলে জানিয়েছেন তাহেরপুর পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম আরিফ।

তিনি বলেন, এই চক্রটি ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে ছিল। রাতারাতি তারা আবার ছাত্রদল সাজতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালিয়ে আসছে। দলীয় কিছু মিটিং মিছিলেও অংশ নিয়ে দলের দুএকজন নেতার সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছে। আসলে তারা ছাত্রদলের কেউ নয়।