নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ বেতার আঞ্চলিক কেন্দ্র, রাজশাহীতে সংবাদ পাঠক-পাঠিকা নিয়োগ পেতে তদ্বির সুপারিশ, হুমকি-ধমকি প্রদান করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একসঙ্গে ঢালাও ৪১ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বাদ যাননি আওয়ামী লীগের নেত্রী ও ঘোনিষ্টজনরাও।
বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী আঞ্চলিক কেন্দ্র সূত্র মতে, গত ২১ ও ২২ মে এ কেন্দ্রের খবর পাঠক-পাঠিকা নিয়োগের জন্য অডিশন গ্রহণ করা হয়। নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন বাংলাদেশ বেতারের বার্তা বিভাগের উপ-মহাপরিচালক শরিফুল কাদের, রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক, আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক সুলতানা পারভীন ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক।

নিয়োগ বোর্ড করে প্রায় দেড়শ জনের অডিশন গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ইংরেজী বিভাগের জন্য ৭ জন এবং বাংলা বিভাগের জন্য ৩৪ জনকে নিয়োগ দিয়ে গত ৪ জুন তালিকা প্রকাশ করা হয়। সবমিলিয়ে ৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। যাঁদের মধ্যে রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবি নাসরিন আক্তার মিতা নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগে। মিতা যোগত্য অনুযায়ী নিয়োগ পেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন রেডিও’র একাধিক সূত্র। তাঁর কণ্ঠ ভাল হওয়ায় আগে থেকেই তিনি রেডিওতে অনুষ্ঠান ঘোষক ও নাট্যকার হিসেবেও রয়েছেন। এছাড়াও আন্তঃনগর সিল্কসিটি, পদ্মা ও ধুমকেতু ট্রেনেও তার রেকর্ডকৃত ঘোষণা প্রচার হতো।
নাসরিন আক্তার ছাড়াও নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর ঘোনিষ্ট একজন। এছাড়াও বাংলা ও ইংজেরী দুই বিভাগেই নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও বিশ^বিদ্যালয় ও কলেজ পড়ুয়া জনাদশেক শিক্ষার্থীও আছেন।
অডিশন দিয়েও নিয়োগ না পাওয়াদের মধ্যে আরিফুজ্জামান নবাব নামের একজন অভিযোগ করে বলেন, ‘রাজশাহীতে রেডিও’র ইতিহাসে এই প্রথম গণহারে এতো সংবাদ পাঠক-পাঠিকা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গণহারে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বার্তা পরিচালকের পছন্দেও তালিকা থেকে। ফলে আমরা অডিশনে ভালো করেও নিয়োগ পাইনি। আমরা এরকম অন্তত ৫ জন আগামী রবিবার লিখিত অভিযোগ করবো আঞ্চলিক বার্তা পরিচালকের কাছে। কেন আমাদের নিয়োগ না দিয়ে যারা অডিশনে খারাপ করেও নিয়োগ পেয়েছেন, তারা কিভাবে নিয়োগ পেলো?’
আরেকজন বলেন, ‘আমরা নিয়োগ দেখে হতাশ হয়েছি। আমরা দীর্ঘদিন রেডিওতে সম্মানের সঙ্গে কাজ করছি এমন বেশ কয়েকজন ইচ্ছেকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। আবার তদ্বিরের মাধ্যমে এমন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যারা ঠিকমতো এখনো রেডিওতে কথা বলায় হয়তো শেখেননি। এ কারণে আমরা নতুন করে অডিশন নেওয়ার দাবি জানাবো।’
জুবাইদা পারভীন নামের আরেক জন বলেন, ‘বাংলা খবর চালু আছে আগে থেকেই। এর আগেও এ বিভাগের খবর পাঠক-পাঠিকা নিয়োগ হয়েছে। কিন্তু কখনোই একসঙ্গে ১০-১২ জনের বেশি লোক নিয়োগ হয়নি। এই প্রথম গণহারে সুপারিশ আর তদ্বিরের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ভালো করেও নিয়োগ পাইনি।’
তদ্বির ও সুপারিশের বিষেয়টি স্বীকারও করেছেন রাজশাহী বেতারের আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক সুলতানা পারভীন।
তিনি বলেন, ‘আগের ১৯ জন আছে সংবাদ পাঠক-পাঠিকা হিসেবে। কিন্তু তাদের নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে আমরা একসঙ্গে এবার দুই বিভাগের জন্য ৪১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এঁদের মধ্যে বাংলা বিভাগে ৩৪ জনকে আর নতুন করে চালু হতে যাওয়া ইংরেজী বিভাগের জন্য ৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অডিশনের পরে এই নিয়োগগুলো দিতে গিয়ে আমাকে ব্যাপক হুমকি-ধামকি ও সুপারিশ এবং তদ্বিরের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ঢাকা থেকেও ফোনে তদ্বির করা হয়েছে। কিন্তু আমি কোনোকিছুর পরোয়া করিনি। যারা পাশ করেছেন, তাদের সবাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এই নিয়োগুলো অস্থায়ী এবং কাজ করলে টাকা, কাজেই এটি তেমন কোনো ব্যাপার না। তার পরেও আমার ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা নিয়োগ পাননি তারা অভিযোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে আমি কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করিনি। আমি আমার নীতিতে অবিচল থেকে নিয়োগগুলো দিয়েছে। এ নিয়ে কেউ তো বাহাবা দিলো না। উল্টো এখনো আমাকে কেউ হুমকি দিচ্ছে। আজও হুমকি দিয়েছে ফোনে। কেনও নিয়োগ হলো না বলে।’
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বেতার আঞ্চলিক কেন্দ্র, রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক কিশোর রঞ্জন মল্লিক বলেন, ‘কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলতে পারব না। আমি অডিশনে ছিলাম। যারা পাশ করেছে, তারাই তো নিয়োগ পাওয়ার কথা। ইংরেজী খবর নতুন করে রাজশাহী কেন্দ্রে চালু হবে বলে কিছু অতিরিক্ত লোক নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা বা কেউ কোনো দলের কিনা বলতে পারব না।’
স/আর









