নূপুর মাহমুদ:
চীন থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বেড়েছে। হাঁচি-কাশিতে ছড়ানো ছোঁয়াচে এ রোগটি থেকে সুরক্ষা পেতে দেশে মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে। ফলে বাজারে মাস্কের দামও বেড়েছে, সঙ্গে সংকটও তৈরি হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সর্তকতায় বেড়েছে মাস্কের চাহিদা। মরণব্যাধি করোনা ভাইরাস যার মোকাবেলায় মানুষ ছুটছে ফার্মেসীগুলোতে মাস্ক কিনতে। চাহিদা বেশি থাকায় বেড়েছে দামও। তবে কোন কোন ফার্মেসী বলছে তাদের কাছে মাস্ক নেই। যা ছিলো বিক্রি হয়ে গেছে।

দাম বেশি থাকলেও ক্রেতার ভিড়ে হিমসিম খাচ্ছেন ফার্মেসীগুলো সেই সুযোগে চড়া দাম নিচ্ছেন ক্রতাদের থেকে। রাজশাহী নগরীর লক্ষীপুর এলাকার ওষুধের দোকানগুলোতে মাস্ক ক্রেতাদের সংখ্যাও বেড়েছে। কেউ কেউ আগাম সর্তকতার জন্য পুরো বক্স সহকারে মাস্ক কিনছেন।

ফার্মেসীগুলো থেকে বলা হচ্ছে, কমে গেছে মাস্ক সাপ্লাই । ফার্মেসীগুলো আগের সাপ্লাই থাকা মাস্কগুলো বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ দাম বেশি ধরছেন ব্যবসায়ীরা। করোনা ভাইরাসের আতঙ্কের আগেও প্রতি পিচ মাস্কের দাম ধরা হতো ২০ টাকা। বর্তমানে তার দাম দ্বিগুন। তবুও সংকট দেখা দিয়েছে।
মাস্ক কিনতে আসা নাইম ইসলাম নামের এক ব্যক্তি বলেন, আগে মাস্ক পরতাম ধুলাবালি থেকে সুরক্ষার জন্য। তবে এখন মাস্ক পড়ি করোনা ভাইরাসের ভয়ে। যদিও আমাদের দেশে এখনো এই ভাইরাস আসেনি। তবে সতর্ক থাকাটা ভালো।
রাজিব হায়দার নামের আরেক ক্রেতা বলেন, কয়েকদিন আগে একটা মাস্কের দাম নিতো ৩ টাকা, আর এখন তা ২০ টাকা করে নিচ্ছে। তারপরও বলছে বেশি নিলে দিতে পারবোনা সাপ্লাই কম।
লক্ষীপুরের আরিশা ফার্মা এন্ড সার্জিক্যাল ফার্মেসীর বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, এখন মাস্ক সাপ্লাই কম থাকায় দামটা অনেকটাই বেড়েছে। অনেক চাহিদা। আমাদের আগে কেনাগুলো বিক্রি করলাম। তবে কয়েকদিন থেকে অর্ডার দিলেও কোম্পানী দিতে পাড়ছে না।
তিনি আরো বলেন, আগে একটা বক্স কিনতাম ৭০ টাকায়। যা প্রতিপিচ ৩ টাকা দরে বিক্রি হতো। এখন কিনতে হচ্ছে ৭৫০ টাকায়। বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবুও মিলছেনা কোম্পানীগুলোতে।
রাজশাহী মেডিকেল কলজ (রামেক) হাসপাতালে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ পার্থ মনি সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, করোনা ভাইরাস শুধু চীনেই নয়। অন্য দেশেও ছড়িয়েছে। তাই মানুষকে সতর্কতার সাথে বাইরে চলা ফেরা করতে হবে। ঠান্ডা জ্বর, সর্দি করোনার লক্ষণ গতে পবে। তাই মাস্ক ব্যবহার করাটা ভালো।
তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কেউ নিজেকে অসুস্থ মনে করলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ার কথা বলেন তিনি।
অন্যদিকে, গতকাল সোমবার জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হাসান আল মারুফ জানান, লক্ষ্মীপুর মোড়ের রিয়া সার্জিক্যাল এন্ড ড্রাগ হাউজে মাত্র ৫টাকা মুল্যে একটি মাস্কের দাম ২০টাকা নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়ায় রিয়া সার্জিক্যাল এন্ড ড্রাগ হাউজকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি অন্য দোকানদারকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
স/আ









