নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর বাগমারা, পবা ও বাঘা উপজেলায় পাঁচ দিনে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জামায়াতল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) এর ১২ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের দাবি গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে একজন বাঘায় স্বরাষ্ট্রোমন্ত্রাণালয়ের তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এর মধ্যে বাগমরায় আটজন, পবায় তিনজন ও বাঘায় একজন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশের তথ্য মতে, গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যরা তালিকাভুক্ত। তাদের নামে একের অধিক মামলা রয়েছে। তারা ২০০৪ সালে জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দীকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইয়ের হাত ধরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন তারা। এর পর তারা বাগমারা এলাকায় সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা, গুম ও নির্যাতন চালাতে বাংলাভাইকে সহযোগিতা করে। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানা ও রাজশাহীর আদালতে হত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিল।
আজ মঙ্গলবার বাগমারার জুগিপাড়া ইউনিয়নের শান্তপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য বাগমারার জুগিপাড়া ইউনিয়নের শান্তপাড়া এলাকার মৃৃত জয়নাল সরদারের ছেলে আব্দুল কুদ্দুসকে (৪৪) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ গ্রেফতারের বিষয়টি সিল্কসিটিনিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
ওসি নাসিম আহম্মেদ বলেন, আবদুল কুদ্দুস নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিসংগঠন জেএমবি তালিকার ১৮ নম্বর সদস্য। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গত ১১ মার্চ বাগমারা থানা পুলিশ গভীর রাতে বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেএমবিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নে চন্দপুর গ্রামের আবুল হোসেন (৫০), এইকিই উদপাড়া এলাকার লুৎফর রহমান (৪২), ভবানিগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মকবুলের ছেলে রহিদুল ইসলাম (৩৮), জাবেদ আলীর ছেলে আবদুল মান্নান (৩৫), মৃত সমির উদ্দীনের ছেলে আবদুর সাত্তার (৩৩) এরা দুইজন চন্দপুর এলাকার বাসিন্দা।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনি্উজকে এ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত তিনি বলেছিলেন, গ্রেফতারকৃতরা থানায় তালিকা ভুক্ত ১১ নম্বর জেএমবি সদস্য।
একদিন পরে ১২ মার্চ পবা নিজ এলাকায় অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমাল কুমার চক্রবতি সিল্কসিটিনিউজকে নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারকৃত হরকাতুল জিহাদের সদস্যরা হলেন, নওহাটা নতুন পাড়া এলাকার শফিকুল ইসলামের ছেলে আরিফুল ইসলাম (২৮) ও নওহাটা শাহপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে মনসুর রহমান (২৭)।
ওসি জানিয়েছিলেন, এরা দুইজনের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকার পল্টন থানায় একটি একটি করে দুইটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী আইনে ও অপরটি পুলিশ ওপর হামলা। আর পবা থানায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবিরোধী মামলা রয়েছে। আরিফুল ও মানসুর দুইজনে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
একই দিনে বাগমারায় উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের গুনিয়াডাঙ্গা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জেএমবির ৪৮ নম্বর তালিকা ভুক্ত আসামি উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়নের গুনিয়াডাঙ্গা এলাকার মৃত আনিসুর রহমান মন্ডলের ছেলে আবদুর রাজ্জাককে (৩৪) গ্রেফতার করে পুলিশ।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনি্উজকে এ গ্রেফতারের বিয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
অন্যদিকে একই দিনে বাঘায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত জেএমবি এর সদস্য গ্রেফতার করে পুলিশ। সন্ধ্যা ৬ টা ৫০ মিনিটে বাঘার আড়ানী বাজার এলাকায় ‘হক অ্যালুমিনিয়াম’ নামে তার নিজ দোকান থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্য হলেন, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর থানার বাকবাকুল গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে আবুল আওয়াল (৪০)। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাঘার আড়ানী এলাকায় বসবাস করেন।
বাঘার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মাহমুদ তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি সিল্কসিটিনিউজকে নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধ জেএমবির মামলা রয়েছে পুঠিয়া থানায়। এই জেএমবি সদস্য বাঘা থানার ১৫৩ নম্বর জেএমবি সদস্য।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল আওয়াল জেএমবির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের তালিকাভুক্ত থাকায় এর আগে ২০০৫ সালে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন র্যাব-৫ তাকে আটক করেছিলো বলেও তিনি জানান।
তার একদিন পরে ১৩ মার্চ বাগমারার ঝিঁকড়া ইউনিয়নের কুদপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জেএমবি সদস্য এলাকার মৃত দুবাই আলীর ছেলে আবদুল খায়েরকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয় বলে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনি্উজকে এ গ্রেফতারের বিয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
ওসি নাসিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনি্উজকে বলেন, আবদুল খায়ের জেএমবি সদস্য। রোববার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। জেএমবি সদস্য আবদুল খায়ের তালিকার ৬৫ নম্বর সদস্য। তাকে ২০০৪ সালে জেএমবির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছিলো।
একই দিনে পবা নওহাটা এলাকায় বেলা ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জেএমবি সদস্য পবার দির্ঘী পারিলার এলাকার আবু বক্করের ছেলে আবু জাফরকে (৩১)। গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমাল কুমার চক্রবতি সিল্কসিটিনিউজকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।
ওসি জানায়, আবু জাফর জেএমবির সক্রিয় সদস্য। এর আগে ২০০৫ সালে রাষ্ট্রদ্রহী মামলায় আটক করা হয়। সে সময় এলাকায় কয়েকজন মিলে বৈঠক করছিলো সে সময় অভিযান চালিয়ে পুলিশ কাকে আটক করেছিলো।
গ্রেফতারকৃত জেএমবি সদস্যদের বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) নাসিম আহম্মেদ সিল্কসিটিনি্উজকে আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে একটার দিকে বলেন, জেএমবি এরা সন্ত্রাসী। এ জেএমবিদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে। জেএমবি বা জঙ্গি নির্মূল না হলে কন্টোলে আছে। তারা যেনো মাথা চাড়া দিয়ে দেশ বা দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষতি না করতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে জেএমবির শীর্ষ নেতা সিদ্দীকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাইয়ের হাত ধরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেন তারা। এর পর তারা বাগমারা এলাকায় সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা, গুম ও নির্যাতন চালাতে বাংলাভাইকে সহযোগিতা করে। সে সময় তাদের বিরুদ্ধে বাগমারা থানা ও রাজশাহীর আদালতে হত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিল।
স/আ









