নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর মতিহার থানার শাহাপুরে সপ্তম শ্রেণীর দুই ছাত্রীর এক ঘরে আত্মহত্যার ঘটনায় দুটি প্ররোচনার মামলায় বিপ্লব মাস্টার গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে প্ররোচনার অভিযোগে মতিহার থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন আত্মহত্যাকারি শিশু সম্পার মা শরিফা বেগম ও বন্যার বাবা নাজমুল ইসলাম।
শরিফা বেগম আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেছেন একই এলাকার সেকেন্দার আলীর ছেলে স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেনের শিক্ষক বিপ্লব মাস্টারকে। পুলিশ বিকেলেই তাকে গ্রেফতার করেছে। অপর মামলাটি করেছেন বন্যার বাবা নাজমুল ইসলাম। এই মামলায় তিনি আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এনে আসামী করেছেন এলাকার কাদের মোল্লার ছেলে মুন্নাকে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মতিহার থানার ওসি হুমায়ুন কবীর সিল্কসিটি নিউজকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে শাহাপুর গ্রামের মুক্তার হোসেনের কন্যা উম্মে মাড়িয়া সম্পা ও নাজমুল হোসেনের কন্যা বন্যা এক সঙ্গে সম্পার ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। তারা দুজনই বেলঘড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী।

তাদের আত্মহত্যার পর সম্পার মা শরিফা বেগম অভিযোগ করেন, ‘সানশাইন কিন্ডার গার্ডেনের শিক্ষক বেলঘড়িয়া গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে বিপ্লব মাস্টার সম্পাকে প্রায়ই প্রেমের প্রস্তাব দিতো। ষষ্ঠ শ্রেনীতে থাকতেই তাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এরপর নানাভাবে ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রেম করে। কিছুদিন আগে বিপ্লব সম্পাকে ফাঁকি দিয়ে কলেজের আরেক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম শুরু করে।
এনিয়ে তার কন্যা প্রায়ই কান্নাকাটি করতো। মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাবার সময় সম্পা বলেছে, ‘আমি যদি মরে যাই তাহলে বিপ্লবকে ছেড়ো না। তার বিচার করো।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘বিপ্লব মাস্টারের প্ররোচনার কারনেই সম্পা আত্মহত্যা করেছে। তাই মৃত্যুর আগে সম্পার হাতে কলম দিয়ে বিপ্লব মাস্টারের নাম লিখে গেছে।’
অপর মামলাটি দায়ের করেছেন সম্পার বান্ধবী বন্যার বাবা নাজমুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওই এলাকার কাদের মোল্লার ছেলে মুন্না তার মেয়েকে রাস্তা-ঘাটে প্রায়ই জ্বালাতো। রাস্তায় থামিয়ে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। পরপর তিন রাত তাদের বাড়ি এসেছিলো মুন্না। নাজমুল ইসলামকেও একদিন বন্যার বিষয়ে শাসিয়ে ছিলো মুন্না। এসব কারনেই তার মেয়ে বন্যা আত্মহত্যা করেছে বলে তিনি মামলার এজাহারে অভিযোগ করেছেন।
ওসি হুমায়ুন কবীর আরও জানান, সম্পা ও বন্যার লাশ দাফনের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে তারা থানায় এসে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ বিপ্লব মাস্টারকে গ্রেফতার করেছে। আসামী মুন্নাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে শাহাপুর গ্রামের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী সম্পা ও বন্যা এক ঘরে আত্মহত্যা করে। বুধবার তাদের ময়না তদন্ত শেষে পাশাপাশি কবর দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে এঘটনায় দুটি প্ররোচনার মামলা দায়ের করা হয়।
স/অ









