রাজশাহীতে দুই ছেলে এবং তাদের বউদের হাতে এক বৃদ্ধ খুন হয়েছেন। নিহত ওই ব্যক্তির নাম আবুল শেখ (৬৫)। তার বাড়ি নগরীর বহরমপুর এলাকায়। নিহত আবুল শেখ রাজশাহী মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে নথিপত্র সরবাহরকারী ছিলেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ব্যক্তিকে বালিশ চাপা দিয়ে ঘরের মধ্যে খুন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার এক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহতর লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করে।
নিহতর স্ত্রী আছিয়া শেখ সিল্কসিটিনিউজকে জানায়, আমার স্বামীকে ছেলে শরিফুল ইসলাম শরিফের ও আবু তাহের সুজন। তাদের বৌ হবিবা আক্তার লাইলী ও আক্তারুণ। ছেলেরা ঘরের ভেতরে আর বৌও আমাদের ধরে রাখে।
তিনি বলেন, আমাকে মারতে মারতে দুইছেলে আর ছেলেও বৌ ছাদে নিয়ে চলে যায়। আর ঘরে তার স্বামী একা ছিলেন। এক ছেলে গিয়ে তার বাবাকে চেপে ধরে তার কাছে থাকা ট্রাংকের চাবি নিয়ে নেয়। তার পরে পাশের ঘর থেকে নিয়ে চলে যায়। এলাকার মানুষ বললে তাদের বলে আমরা অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, তার স্বামী সকালের খাবার খেতে বসেছিলেন। তার পরেও তারা বেধরপ মারধর করে বালিশ চাঁপা দিয়ে মেরে ফেলে। তারা পালিয়ে যায়। আমি চিৎকার দিয়ে বলে এ তোরা কি করছিস। আমার ছেলে সুজন বলে চুপ নাতো তোকে মেরে ফেলবো। তার পরে আামাকেও তারা মারধর করে।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। এটা হত্যা না অন্য কিছু। তবে লাশ রামেকে আছে ময়না তদন্তের রির্পোট এলে বোঝা যাবে।
ঘটনার পর মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ নিহতের ছোট ছেলে শরীফুল ইসলাম ওরফে শরীফকে (৩০) আটক করেছে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
রাজশাহীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ্ আমান আরো জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় নিহতের মেজ ছেলে আবু বাক্কার সিদ্দিক ওরফে সুরুজ (৩৫) পুলিশকে জানিছেন, কিছু দিন আগে ছোট ভাই শরীফ তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ফেরত চাওয়া হলেও নানান টালবাহানায় টাকা ফেরত দিচ্ছিল না শরীফ।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল রোববার (০৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে সালিশ ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো মীমাংসা হয়নি। সোমবার সকালে বাড়িতে পাওনা টাকা নিয়ে আবারও তাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ সময় বাবা আবদুল শেখ তার পক্ষ নিয়ে শরীফকে রাগারাগি শুরু করেন। তবে আর বড়ভাই আবু তাহের ওরফে সুজন (৪২) ছোট ভাই শরীফের পক্ষ নেন। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এক পর্যায়ে আবু তাহের ও শরীফ মিলে তাদের বৃদ্ধ বাবার মুখে বালিশ দিয়ে চেপে ধরেন।
এতে মোহাম্মদ আবদুল শেখের শরীর নিস্তেজ হয়ে গেলে তাকে দ্রুত রামেক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বর্তমানে মরদেহের ময়নাতদন্ত চলছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর ছোট ছেলে শরীফকে বহরমপুরের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে বড়ভাই আবু তাহের পলাতক পালিয়ে গেলেও তাকে ধরার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে বলেও জানান ওসি।