নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে রক্তচাপ পরীক্ষা করে রোগীরা এনসিডি কর্নারে গিয়ে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করলেই মিলছে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ। নিয়মিত মাসিক ফলোআপের মাধ্যমে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এনসিডি কর্নারের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরার পাশাপাশি, প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে কমিউনিটি ক্লিনিকে রক্তচাপ পরীক্ষা করে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত এবং এনসিডি কর্নার থেকে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বেলা ১২টায় মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল (এনসিডিসি) প্রোগ্রাম এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন মোহনপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারহানা ইয়াসমীন শিখা।
প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় প্রোগ্রাম অফিসার এহসানুল আমিন ইমন এবং সার্ভেইলেন্স মেডিকেল অফিসার ডা. প্রিতম সাহা।
বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের কারণে দেশে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই বিভিন্ন অসংক্রামক রোগজনিত, যার মধ্যে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ সিভিডি (কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ)–জনিত মৃত্যুর হার ৩৪ শতাংশ। অকাল মৃত্যুর ১৯ শতাংশের জন্যও এসব রোগ দায়ী।
এই পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে এনসিডি কর্নার চালু করেছে। সিমপল অ্যাপ ব্যবহার করে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা রোগীদের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে প্রাপ্তবয়স্ক সকল নাগরিক যেন কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত করে এনসিডি কর্নার থেকে সেবা গ্রহণ করেন—সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
কর্মশালায় এই কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গণমাধ্যম কর্মী, মসজিদের ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় নেতা এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সক্রিয় ভূমিকার উপর জোর দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে মোহনপুর উপজেলার সকল কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার)-রা অংশগ্রহণ করেন।









