রাজশাহী

রাজশাহীতে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ভুল রিপোর্টের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক১ আগস্ট ২০১৯২ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয় এক রোগীর। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ওই রোগীর কর্তব্যরত চিকিৎসক এটাকে ডেঙ্গু বললেও ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে বলা হয় ডেঙ্গু নেই। পরে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে তার। এ নিয়ে পরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে রোগীর স্বজনকে সমঝোতা করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে এ অভিযোগ করেন রোগীর বড় ছেলে জাকারিয়া। ভুক্তভোগী রোগী হাসান আলীর (৫৬) বাড়ি তানোরে।

জাকারিয়া অভিযোগ করে জানান, ডেঙ্গু সন্দেহে বুধবার বিকালে তার বাবাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক এটাকে ডেঙ্গু বলে পরীক্ষা করতে বলেন। বাবাকে নিয়ে বুধবার রাতেই নগরীর লক্ষীপুর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষা করানো হয়। সেই পরীক্ষার রিপোর্টে দেখানো হয়, তার ডেঙ্গু হয়নি। রামেকের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে আবার পরীক্ষা করতে বলেন। পরে নগরীর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবার পরীক্ষা করানো হয়। তাতে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। আর তা মারাত্বক আকার ধারণ করেছে বলে সেখানকার রিপোর্টে বলা হয়। পরে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা জানান, না তাদের রিপোর্ট ঠিক আছে। কোনো ভুল নেই। তারা এজন্য রোগীকে আবার ল্যাব এইডে পরীক্ষা করানোর কথা বলে। এখন তার বাবা রামেকে চিকিৎসাধীন আছেন।

তিনি জানান, এ বিষয়ে যাতে কোনো মামলা বা সংবাদ প্রকাশ না করা হয় সেজন্য তাকে বৃহিস্পতিবার রাতে মুঠোফোনে কল করা হয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল থেকে। এজন্য তাকে আগামীকাল শুক্রবার হাসপাতালের সুপারের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানানো হয়।

তিনি বলেন, এখানে সমঝোতা করার কোনো সুযোগ নেই।

জাকারিয়া বলেন, হাসপাতালটির ভুল রিপোর্ট ও ডাক্তারদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে এর আগেও তাদেরকে ভুগতে হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালে হাসপাতালটির নওদাপাড়া শাখায় চিকিৎসা করে তার বোনকে মরতে হয়েছে। মাতৃত্বকালীন তার বোনকে সেখানকার এক ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করানো হয়। ওই চিকিৎসকের অধীনে তার বোন বাচ্চাও প্রসব করে। এসময় তার দু’টি কিডনী নষ্ট বলে জানান ওই চিকিৎসক। কিন্তু তার পরিবারকে জানানো হয়নি। বাচ্চা প্রসবের পর হঠাৎ করেই তাকে রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি করতে বলেন ওই চিকিৎসক। এতে রামেকে মাস খানেক চিকিৎসার পর তার বোন মারা যায়।

জাকারিয়া বলেন, এভাবে যেন আর কাউকে ভুগতে না হয়। কাউকে যেন ভুল রিপোর্ট কিংবা চিকিৎসার শিকার হতে না হয়। এ হাসপাতালের কথা মানুষ জানুক।

 

স/শা