নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর স্বামীকে মারধর এবং তার কাছে থাকা এক লাখ দশ হাজার টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় আরএমপির এয়ারপোর্ট থানাধীন ব্র্যাক অফিসের দক্ষিণ পাশে ওয়াসিমের চেম্বারে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত ব্যক্তি মো. আল ফারুক আহম্মেদ আজাদ কামাল।

তার স্ত্রী শিক্ষানবিশ আইনজীবী মোসা. তানিয়া খাতুন এয়ারপোর্ট থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার স্বামী দুই কোটি টাকা পাওনা ছিলেন। সেই টাকা দেওয়ার কথা বলে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বিবাদীরা তাকে উক্ত স্থানে ডেকে নেয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে চারজন মিলে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
অভিযুক্তরা হলেন–জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. কাওছার আলী (২৬), ওহাব আলীর ছেলে মো. লিটন (৩০), মৃত জফুর উদ্দিন এর ছেলে মো. জয়নাল আবেদীন (৫৫) ও মো. ওহাব আলী (৫২) সবাই রাজশাহী মহানগরের শাহমখদুম থানাধীন ভূগরইল এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাওছার আলী লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। লিটন কাঠের চলা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। জয়নাল আবেদীনের আঘাতে তার মুখে রক্তাক্ত জখম হয়। মারধরের পর কাওছার আলী তার স্বামীর কাছে থাকা নগদ এক লাখ দশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
এ সময় তার স্বামীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও স্বাক্ষীগণ ছুটে আসেন। উল্লেখযোগ্য স্বাক্ষীরা হলেন- মো. দেলশাদ (৩৩) ও মো. মশিউল আজাদ দূর্জয় (২৭)। তারা জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও রক্তাক্ত ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন,“অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
আহত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোয় পবা উপজেলার এমন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।









