রাজশাহী

রাজশাহী সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশনে শ্রমিক লীগের নেতারা এখন শ্রমীক দলের পদে

নিউজ ডেস্ক১০ জুলাই ২০২৫৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ এসোসিয়েশন’র (সিবিএ) বাংলাদেশ জাতীয়বাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভূক্ত সংগঠন। রাজশাহী জেলায় এ সংগঠনটির নতুন কমিটি অনুমোদন হয়েছে গত ২৬ জুন। কেন্দ্রীয় সভাপতি জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদকমাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে সভাপতিসহ ৩০ সদস্যের এ কমিটির অন্তত ৭ জন নেতা একসময় জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন রাজশাহী জেলার নেতা ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও, বিপুল অংকের অর্থের লেনদেনের মাধ্যমে একসময়ে শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত কমিটির নেতাদের শ্রমিক দলের অন্তর্ভূক্ত কমিটিতে (সিবিএ) ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সিবিএ’র সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও অভিযোগ করেছেন।

সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন রাজশাহী জেলা শাখা সূত্র মতে, জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত ওই কমিটি সর্বশেষ গঠন হয়েছিল ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর। ১৩ সদস্যের ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন সালাহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুজাহার আলী। সেই কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল আউয়ালকে গত ২৬ জুন গঠিত বর্তমান সিবিএ’র সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়াও আগের কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক হয়েছেন সিবিএ’র উর্দ্ধতন সহ-সভাপতি, সিবিএ’র সহসভাপতি আলমগীর কবীর হলেন শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুজাহারের বোন জামাই, শ্রমীক লীগে যুগ্ম-সম্পাদক জয়নাল আবেদীন সিবিএতেও পেয়েছেন একই পদ, আগের কমিটির সাংস্কৃতি সম্পাদক শামছুল প্রামাণিক সিবিএ’র সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ, আর যুগ্ম-সম্পাদক আপেল হোসেন হলেন শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত কমিটির সভাপতি সালাহ উদ্দিনের আপন মেয়ে জামাই। এর বাইরে আরও কয়েকজন বর্তমান সিবিএ’র নেতা আগের শ্রমিক লীগের কমিটিতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদে ছিলেন বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

সদ্য ভেঙে দেওয়া সিবিএ রাজশাহী জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি মাহফাজুল হাসান কালের কণ্ঠকে অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা খুবই ব্যথিত যে, কিভাবে শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত কমিটির নেতারা সিবিএর সভাপতিসহ অন্তত সাতটি পদ দখল করতে পারে? আমাদের কাছে কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো কোনো নেতা টাকা চেয়েছিলেন নতুন কমিটি দেওয়ার জন্য আমরা সেই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁরা রাজশাহীতে এসে ইচ্ছেমতো শ্রমিক লীগের নেতাদের শ্রমিক দলের নেতা বানাই দিয়ে গেছেন।’

সিবিএ রাজশাহী জেলা কমিটির আরেক সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব বলেন, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন করে আমরা সিবিএ কমিটি গঠন করি। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২২ সদস্যের ওই কমিটি কেন্দ্র থেকেও অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু এক বছর না যেতেই টাকার বিনিময়ে সেই কমিটি ভেঙে দিয়ে এবার শ্রমিক লীগের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই শ্রমিক লীগ নেতাদের কারণে আমাদের অনেকের পদোন্নতি হয়নী দীর্ঘদিন, কাউকে কাউকে শাস্তিমূলক একের পর এক রাজশাহীর বাইরের জেলায় বদলি করা হয়েছে। এখন তারাই আবার শ্রমিক দলের কমিটিকে পদ পেয়েছেন। শুধুমাত্র নিজের আখের গোছাতে এবং নানা অপকর্ম ঢাঁকতে আমাদের সিবিএ’র পদ বাগায় নিয়েছেন তাঁরা।’

জানতে চাইলে সিবিএর’র রাজশাহী জেলা সভাপতি আব্দুল আউয়াল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি শ্রমিক লীগের অন্তর্ভূক্ত কমিটিতে সহসভাপতি ছিলাম ঠিক আছে। কিন্তু ডি ফরম পূরণ করলে আর আগের কমিটি থাকে না। তাই নতুন কমিটিতে পদ পেয়েছি। এভাবেই অন্যরা পদ পেয়েছেন এখানে।’

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, ‘অনেকেই নিজেদের টিকিয়ে রাখতে শ্রমীক লীগের অন্তভর্’ক্ত কমিটির বিভিন্ন পদে ছিলেন। কিন্তু তারা আবার শ্রমিক দলের অন্তভর্’ক্ত সিবিএতে ফিরে এসেছেন। এখানে আমার কিছু করার নাই। আর রাজশাহী জেলায় মাত্র ৪২ জন শ্রমিক সেই হিসেবেও ৩০ জনের কমিটিতে কেউ কেউ জায়গা পেয়েছেন। এটি আমি রাজশাহী জেলা ও মহানগর নেতাদেরকেউ অবগত করেছি। এখানে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি।’