নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বর্তমান এমপি ও ওয়াকার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশাকে সরিয়ে দলীয় প্রার্থীর দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নতোকর্মীরা। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমামের কাছে এ দাবি জানানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী সার্কিট হাউজে এ দাবি জানান মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
এসময় তারা বাদশার পরিবর্তে সদর আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে মহাজোট থেকে প্রার্থী করারও দাবি জানান।

তাদের দাবি, এমপি হলেও ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহীর উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি। তিনি নিজের স্বার্থ নিয়েই ব্যতিব্যস্ত ছিলেন। এ কারণে রাজশাহীবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী মহানগরে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা তেমন কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি। চোখে পড়ার মতো কোনো উন্নয়ন প্রকল্প তিনি এখন পর্যন্ত নিয়ে আসতে পারেননি রাজশাহী নগরের জন্য। এসব কারণে সামনে নির্বাচনে মহাজোট থেকে তার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী দেওয়ার দাবি জানানো হয় এইচটি ইমামের কাছে।
এইচটি ইমাম গত শনিবার রাজশাহী সফরে এলে নগরীর সার্কিঠ হাউজে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানান রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা।
ওই সভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুল খালেক বলেন, দল ক্ষমতায় থেকেও সদরে আওয়ামী লীগের কোনো নেতৃত্ব নাই। কাজেই এখানে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নাই।’
এছাড়াও সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অনিল কুমার সরকার ছাড়াও আরো কয়েকজন নেতা ফজলে হোসেন বাদশার পরিবর্তে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাবি করেন। পাশাপাশি এসব নেতারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আগামী নির্বাচনে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে মহাজোট থেকে প্রার্থী করারও দাবি জানান।
এর আগে গত ১৮ ফ্রেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুল কাদেরের কাছেও একই দাবি জানিয়েছিলেন রাজশাহী মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিতেও শোনা যায়।
তবে এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, যে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগের কর্মী কি না তা সন্দেহ আছে। রাজশাহীর নেতাদের কথায় এমপি প্রার্থী পরিবর্তন হবে না। আমি তাদেরকে টেন্ডারবাজি ও দুর্নীতির সুযোগ করে দিই না একারণে মিথ্যে অভিযোগ তুলেছেন।’
বাদশা অারো বলেন, ‘কে কী করে সব রেকর্ডই প্রধানমন্ত্রীর কাছে রয়েছে। কাজেই ১৪দল বসেই প্রার্থীতা ঠিক হবে। এদের কথায় কিছু হবে না।
জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন কালের বলেন, ‘সদর আসনে মহাজোট থেকে যাকে প্রার্থী হিসেবে দেওয়া হবে-আওয়ামী লীগ তার হয়েই কাজ করবে।
স/আর









