রাজশাহীর খবর

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড: বিদ্যালয় পরির্দশকের বিরুদ্ধে ৭ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক২২ আগস্ট ২০২৩৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের বিরুদ্ধে সাত লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘুষ না দেওয়ায় একটি বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইল আটকিয়ে রেখেছেন তিনি। একইভাবে আরও কয়েকটি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সভাপতি পদে নিজের পছন্দের লোকজনকে বসিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অর্থ না দিলেই স্কুল থেকে পরিচালনা কমিটির যে তালিকা দেওয়া হয়, সেটিও পরিবর্তন করে নিজের খেয়াল-খুশি মতো কমিটির অনুমোদন দেন বা ফাইল আটকে রাখেন। এসব নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাঃ সাবিরুদ্দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন। ওই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মাহপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১ আগস্ট ওই নির্দেশনা দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহীনুর ইসলাম।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক জিয়াউল হক একজন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি। তাঁকে ঘুষ না দিলেই বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদেও হেনস্থা ও হয়রানি করা হয়। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করতে প্রতিষ্ঠান থেকে বিধি অনুযায়ী যে তিনজনের নাম দেন, সেটি পরিবর্তন করে ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের নাম দিয়ে কমিটি অনুমোদন দেন। জিয়াউল হক শিবগঞ্জে জমি কেনার জন্য বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবিরুদ্দিনের নিকট থেকে সাত লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা দিতে না পারায় জিয়াউল হক সাবিরুদ্দিনকে নানাভাবে হয়রানি এবং ওই স্কুল পরিচালনা কমিটির ফাইল আটকে রেখেছেন। একইভাবে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট উচ্চ বিদ্যালয়, তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়, দাই পুকুরিয়া ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি স্কুলের প্রধানদের সঙ্গে অসাদাচারণ করেন।

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এর আগে গত বছরের অক্টোবরে শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম, আহসান হাবিব ও দিলসাদের নাম পাঠানো হয়। বিধি অনুয়ায়ী শিক্ষা বোর্ড এই তিনজনের মধ্যে যে কোনো একজনকে সভাপতি করে কমিটি অনুমোদন দিবে। কিন্তু তা না করে বিদ্যালয় পরির্দশক জিয়াউল হক তাঁর পছন্দের শামীম রেজা নামের এক ব্যক্তিকে সভাপতি করে গত বছরের ১ নভেম্বর কমিটি অনুমোদন দেন। একইভাবে শিবগঞ্জের তেলকুপি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে যে তিনজনের নাম দেওয়া হয়, তাঁদের মধ্যে থেকেও একজনকে ওই দায়িত্ব না দিয়ে ইমরান হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবিরুদ্দিন বলেন, ‘রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরির্দশক জিয়াউল হককে ঘুষ না দেওয়ায় আমার বিদ্যালয়ের কমিটি অনুমোদন না দিয়ে ফাইল আটকিয়ে রাখেন তিনি। এর আগেও তিনি তাঁর পছন্দের ব্যক্তিকে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এটি তিনি করতে পারেন না।’

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে ‘রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরির্দশক জিয়াউল হককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্ত নাই। ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির ফাইল আটকে রাখা হয়নি। সেটি চলমান আছে। তবে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেই নানা অভিযোগ আছে। সেসবও তদন্ত হচ্ছে।’

স/আর

ট্যাগ: