নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় অবস্থিত মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের বহু পুরনো বিশালাকার চারটি কড়াই গাছ পানির দামে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উটেছে। ৫ লাখ টাকা দামের চারটি কড়াই গাছ বিক্রি করা হয়েছে মাত্র ৪৫ হাজার টাকায়।
গোপনে গাছগুলো বিক্রি করার পরে এরই মধ্যে দুটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কম দামে বিক্রি দেখিয়ে প্রধান শিক্ষক মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

- এ নিয়ে শনিবার দুপুরে স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে আশেপাশের লোকজনের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা।
স্থানীয় এবং স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রায় ৬০ বছর বয়স্ক চারটি বিশালকার কড়াই গাছ গত শুক্রবার স্কুল ছুটির দিনে কাটতে শুরু করেন কয়েকজন শ্রমিক। এসময় আশে-পাশের লোকজন এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে ওই শ্রমিকরা দাবি করেন গাছগুলো একজন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
এ কারণেই তারা কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর শুক্রবার সারাদিনে দুটি কড়াই গাছ কেটে সাবাড় করে শ্রমিকরা। স্কুল খোলার পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে প্রধান শিক্ষক একরামুল হক দাবি করেন স্কুলের প্রয়োজনে গাছগুলো তিনি ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
স্থানীয় আকবর আলী বলেন, রাজশাহী নগরীর মধ্যে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিতরে অন্তত ৬০ বছরের পুরনো গাছগুলো এই স্কুলটির যেন স্মৃতিচিহ্ন হয়ে আছে। কিন্তু হঠাৎ করে গাছগুলো কেন কেটে ফেলা হচ্ছে তা বুঝতে পারছি না। গাঝগুলো পানির দামে বিক্রি করে দিয়ে অর্থ লোপাটের জন্যই এটি করছেন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো প্রধান শিক্ষক তাদেরই নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন।’
- আতিকুর রহমান নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘গাছগুলো বিক্রি করার কারণে গোটা স্কুলটি এখন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। এতে করে এলাকার পরিবেশর মারাত্মক ক্ষতি হলো। তবে গাছগুলো যে কোনো সময় বিক্রি করলে অন্তত ৫ লাক টাকা দাম পাওয়া যাবে। কিন্তু টাকা আত্মসাতের কারণেই গাছগুলো হঠাৎ গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।’
স্কুলের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘শনিবার গাছ কাটার বিষয়টি দেখতে পেয়েই শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে এর প্রতিবাদ জানান। কিন্তু এ নিয়ে প্রধান শিক্ষক তাদেরও হুমকি-ধামকি দেন। এ কারণে শিক্ষার্থীরাও ভয়ে আর কথা বলতে পারছে না।
তবে স্কুলের প্রয়োজনেই গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক একরামুল হক। তিনি বলেন, যা দাম পাওয়া গেছে-তাই বলা হচ্ছে। কোনো টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় কিছু মহল বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স/আর









