রাজশাহী

রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান থেকে হচ্ছে বার্ড পার্ক ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত রাসিকের

নিউজ ডেস্ক৯ মে ২০২৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একসময় ছিল রাজশাহী কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা। এখানে উট, বাঘ, সিংহ, অজগর, বড় বড় সাপ, সারস পাখিসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রজাতির পাখি, নানা প্রজাতির কবুতর, বিশালকারের গরু, হরিণ, গাধা, কচ্ছপ, উদবিড়ালসহ নানা প্রজাতির প্রাণীতে ভরে ছিল এই পার্কটি।

কিন্তু সময়ের আবর্তে একের পর এক প্রাণী হারিয়ে যেতে থাকে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির সাজসজ্জাসহ ঢেলে সাজানোও হয়।

সঙ্গে নতুন করে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন।’ কিন্তু গত প্রায় ২০ বছরে এই পার্ক থেকে একের পর এক প্রাণী বিলিন হতে শুরু করে।

এখন হাতে গোনা কয়েক প্রজাতির প্রাণী আছে। এর মধ্যে আছে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি হরিণ, দুটি ঘোড়িয়াল, প্রায় একশটি কবুতর। বেশি প্রাণী না থাকায় এই পার্ক প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের টিকিট বিক্রির টাকা থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে প্রাণীগুলোকে।

তবে আবারও নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে এই পাকর্টির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। এবার ‘রাজশাহী বার্ড পার্ক’ নামকরণের জন্য এরই মধ্যে নতুন প্রশাসক প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েছেন।

পাশাপাশি পার্কটির উন্নয়ন এবং নামকরণের সঙ্গে মিল রেখে পাখি কেনা ও অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে বরাদ্দ প্রদাণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাসিকের ভ্যাটেনিরারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা নাম পরিবর্তনসহ প্রকল্প বরাদ্দ দিতে প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি দিয়েছি। মন্ত্রণালয় যদি বিষয়টি অনুমোদন করে তাহলে তারা পরিদর্শন শেষে প্রকল্প বরাদ্দ দিলে আমরা নতুন করে পার্কটিকে আমরা ঢেলে সাজাবো।

সে ক্ষেত্রে পাখিদের বাসা বানানো, পাখি কেনা এবং অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় ১০-১৫ জাতের নানা রংয়ের পাখি রাখা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন এ পার্কে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৪৯টি হরিণ বেশি আছে। এই হরিণগুলো আমরা বন বিভাগের অনুমোদন স্বাপেক্ষে কেউ এই হরিণগুলোকে পালন করতে চাইলে আমরা অতিরিক্তগুলো বিক্রি করে দিব।

কিন্তু করোনার পর থেকে এই রকম কোনো সৌখিন মানুষ আমরা পাইনি। তবে সিলেটের জালালাবাদ প্যারা কমান্ড ইউনিট ৫টি হরিণ চেয়ে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। সেখানে প্রাণীদের একটি অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে। তাই তারা ৫টি হরিণ চেয়েছে। এর মধ্যে দুটি হরিণের নির্ধাতির মূল্য ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা পরিশোধ করতে চেয়েছে তারা। আর তিনটি অনুদান হিসেবে চেয়েছে।’
আমরা এটি নীতিগতভাবে সিদ্ধান্তও নিয়েছি। এখন ফাইলটি প্রশাসক মহোদয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। ৫টি হরিণ দিলে আমাদের পার্কে আরও ১২৪টি হরিণ থাকবে। ’
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বনবিভাগের নিয়ম অনুযায়ী একটি হরিণের জন্য অন্তত ৫০০ স্কয়ার ফিট জায়গার প্রয়োজন হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানে হরিণের যে সেড আছে, সেখানে প্রায় ৪০ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা রাখা আছে। সেই হিসেবে ৮০টির মতো হরিণ ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।

কিন্তু হরিণ রয়েছে ১২৯টি। এতো বাড়তি হরিণের খাবার দেওয়াও আমাদের জন্য একটু ব্যয়বহুল হচ্ছে। তাই বাড়তি হরিণগুলো আমরা নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতে চাই। কিন্তু এই হরিণ যিনি কিনবেন, শুধু বন বিভাগের অনুমতি স্বাপেক্ষে লালন-পালনের জন্য কিনতে পারবেন। কোনোভাবেই হরিণ জবাই করা যাবে না। সেই শর্তে বিক্রি করা হবে।’
রাসিক সূত্র মতে, রাজশাহী কেন্দ্রী উদ্যানে এখন দুটি গোড়িয়ালও আছে। এর মধ্যে একটি পুরুষ একটি নারী। গত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসের মধ্যে নারী হরিণটি দুটি বা একটি ডিওমও দিয়েছিল।

কিন্তু সেটি কেউ টের পাইনি। ফলে ডিমগুলো ঘোড়িয়ালের পুকরে পড়ে ডুবে যায়। এরপর পচে এক সময় একটি ডিম ভেসে উঠলে বিষয়টি টের পান উদ্যানের দায়িত্বরত কর্মচারীরা। বছরে একবার গোড়িয়ালের প্রজনন ক্ষমতা হয় বলেও জানান রাসিকের ভ্যাটেনিরারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, আমরা এখন সতর্ক আছি। যেন এবার ডিম দিলেই সেটি উদ্ধার করে ইনকিউবেটরে বা অন্য কোনো মাধ্যমে সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো যায়।’
রাসিক সূত্র মতে, রাজশাহী কেন্দ্রীয় উদ্যানটি রয়েছে প্রায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে।

তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ৩ একর জায়গার ওপরে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটর করা হলে এর আয়তন কমে যায়। তবে এতো ছোট আকারের জায়গায় চিড়িয়াখানা বা উদ্যান গড়ে তোলা সম্ভব নয়। ফলে এটিকে এখন বার্ড পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাসিক। এখন প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই দ্বিতীয় বারের মতো এই পার্কটির নাম পরিবর্তন করা হবে।