নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহী কলেজ মহিলা হোষ্টেলে গলায় ফাস দিয়ে এক ছাত্রী লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

ওই শিক্ষার্থীর নাম নাজমা খাতুন। সে রাজশাহীর দূর্গাপুরের পালিবাজার এলাকার আবু তাহের এর মেয়ে। তিনি রাজশাহী কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে সম্মান পাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি ভূগোলে বিষয়ে মাষ্টার্সে ভর্তিচ্ছু ছিলেন।
জানা যায়, নাজমা খাতুন থাকতেন রাজশাহী কলেজ মুসলিম হোষ্টলের মেইন ব্লকের ১০১ নং রুমে। তার রুমমেট শীতের ছুটিতে বাসায় চলে যাওয়ায় ওই রুমে তিনি একাই থাকতেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পাশের রুমের ছাত্রীরা এসে তাকে ডাকাডাকি করে। দরজা ভেতর থেকে লাগানো দেখে হোষ্টেলের দায়িত্বরত শিক্ষক জান্নাতকে খবর দেন।

পরে দরজা ধাক্কিয়ে খুলে জানালার সাথে ওড়না পেচিয়ে তার লাশ ঝুলতে দেখা যায়। পরে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
সূত্র জানায়, নাজমা খাতুন রাজশাহী কলেজের স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস যাবত তিনি সেখানে অনুপস্থিত ছিলেন। লাশ উদ্ধারের সময় তার কাছ থেকে সুইসাইড নোট পাওয়া যায়।
পরে পরিবারের কাছে খবর দেয়া হয়। সেইসঙ্গে ছাত্রী নাজমার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, জুম্মার নামাজ পড়ে আমি পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলাম। মোবাইল কাছে না থাকায় আমার পিয়ন দৌড়ে এসে আমাকে সংবাদ দেয়। পরে আমি গিয়ে জানালা থেকে বাধন খুলি।
তিনি আরও বলেন, মেয়েটি রুমে একা থাকায় সে হয়ত রাতেই ফাস দিয়েছে। তার শরীর অনেক ঠান্ডা ছিল। মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল।
সুইসাইড নোটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই নোটে কি লিখা ছিল তা বলোয় আমি ঠিক ভাবে পড়িনি। তবে মেয়েটির মা ছোট বেলায় মারা যায়। সে দাদীর কাছে লালিত পালিত হয়। তাই সে ওই নোটে দাদীকে নিয়ে তার আবেগের কথা লিখে রাখে। কিন্তু তাতে ফাসের কথা কিছু লেখা নেই।
তিনি জানান, মেয়েটির বাবা আসতে পারেন নি। তার চাচা আর বোন আসছে। আমি তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে দিব।
স/শ









