সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—‘রাগ হলো শয়তানের প্রভাব; আর শয়তান সৃষ্টি হয়েছে আগুন থেকে।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৭৮৪) এ কারণেই রাগ যখন বুকে ফেটে ওঠে, তখন মানুষ এমনসব কাজ করে ফেলে, যা তার দুনিয়া ও আখিরাত—উভয়কেই বিপর্যস্ত করে দেয়। তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতদের বারবার শিক্ষা দিয়েছেন : “লা তাগদাব—রাগ কোরো না।
আসলে প্রকৃত শক্তিমান সেই নয়, যে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে কুস্তির ময়দানে বিজয়ী হয়; বরং প্রকৃত বীর তো সেই, যে নিজের রাগকে বশে রাখতে সক্ষম হয়। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)
আধুনিক বিজ্ঞানও এ সত্যকে নিশ্চিত করেছে। ২০১৫ সালে সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, তীব্র রাগ হৃদপিণ্ডের কর্মক্ষমতাকে বিপর্যস্ত করে। রাগের দুই ঘণ্টার ভেতর হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আট গুণ বেড়ে যায়।
এই জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—রাগ উঠলে নিজেকে থামাও। দাঁড়িয়ে থাকলে বসো, বসে থাকলে শুয়ে পড়ো। ঠাণ্ডা পানি মুখে নাও, কারণ পানি যেমন আগুন নেভায়, তেমনি রাগের আগুনও তা শান্ত করে।
রাগের উত্তাপ নেভানোর সবচেয়ে সুন্দর পথ হলো ক্ষমা। ক্ষমাই শান্তির বীজ বপন করে মানুষের অন্তরে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন—
“যারা বড় গোনাহ ও অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকে এবং ক্রোধ প্রকাশের পরিবর্তে ক্ষমা করে দেয়—তাঁরাই প্রকৃত ঈমানদার।” (সুরা শুরা, আয়াত : ৩৭)
অতএব রাগ হলো অন্তরের দাবানল, যা দেহ, মন ও আত্মা—সবকিছু পুড়িয়ে ফেলে। আর ক্ষমা হলো শীতল বৃষ্টিধারা, যা সেই দাবানলকে নিভিয়ে দেয়, হৃদয়কে করে প্রশান্ত, আমলনামাকে করে দীপ্তিময়।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে রাগের আগুন থেকে রক্ষা করুন, ক্ষমার আলোতে জীবন আলোকিত করুন এবং খাঁটি মুমিনদের কাতারে শামিল করুন। আমিন।
লেখক : প্রাবন্ধিকও অনুবাদক









