রাজশাহী

যৌবন ফিরেছে পুঠিয়ার ঐতিহাসিক হাওয়াখানার

নিউজ ডেস্ক১৪ নভেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

মইদুল ইসলাম মধু, পুঠিয়া:

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজপ্রাসাদ থেকে ৩ কিঃমিঃ পশ্চিমে ও নাটোর-রাজশাহী মাহাসড়কের তারাপুর বাজার থেকে ৫০০ গজ দক্ষিনে তারাপুর গ্রামে ১০ একর আয়তনের এক দিঘীর মাঝখানে অবসর বিনোদনের জন্য নির্মিত চুন সুরকি আর পাতলা ইটের গাথুনি দিয়ে তৈরি বিলাসবহুল ভবন। ভবনটি হাওয়াখানা নামে পরিচিত।

 

ভবনটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট প্রস্থ ৪২ ফুট উচ্চতা ৩৪ ফুট। দরজা জানালা বিহীন ভবনটির প্রথম তলা পানির নিচে থাকে। দি¦তীয় তলার পশ্চিম দেয়ালে ১ টি ও ৩ পাশে ৩ টি করে মোট ১০ টি দরজা। ভবনের চার পাশে আছে ৬ ফুট চওড়া বারান্দা। তৃতীয় তলায় ওঠার জন্য আছে ৩ ফুট চওড়া একটি সিড়ি তৃতীয় তলার পশ্চিম দেয়ালে কোন দরজা নেই, আছে বাকী তিন পাশে তিনটি ফাকা দরজা। এর চার পাশে আছে রেলিংসহ ৬ফুট চওড়া বারান্দা প্রথম তলায় আছে ১০০ বর্গফুটের বর্গাকৃতির একটি স্ননাগার এর পূর্বপাশে ছিল প্রায় ৪৫০ বর্গফুট আয়তনাকার জলঘর বর্তমানে এটি মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়েছে। স্ননাগার আর জলঘরে পানি প্রবেশের জন্য আছে চার পাশে ৭টি করে ফুকার বা প্রবেশ পথ।

0125478

                                          আগের ছবি / সিল্কসিটিনিউজ ডট কম

ইতিহাস ঘেটে জানাযায়, জলঘরে খাবার ছিটিয়ে রাজা বাহাদুর দিঘির মাছ দেখতেন। বিকেল বেলা মুগ্ধ হাওয়ার পরশ নিতে রাজাবাহাদুর ঘোড়ায় চেপে দিঘীর পাড়ে গিয়ে ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে দিঘির কাজল কালো জলে ভাসতে ভাসতে হাওয়াখানা ভবনে গিয়ে উঠতেন আবার কোন কোন সময় ডিঙ্গি নৌকায় চরে পুরো দিঘি ঘুরে বেড়াতেন। এক সময় দিঘির চার পাশে রথযাত্রা মেলা বসতো (এখন এটি রাজপ্রাসাদ সংলগ্ন মাঠে বসে) পুঠিয়া রাজপ্রাসাদ থেকে কান্দ্রা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে যে রাস্তাটি তারাপুর হাওয়াখানার দিকে চলে এসেছে এই রাস্তাটির পূর্ব নাম ছিল রথগলি।

 

পিতল ধাতু দিয়ে তৈরি রথ টানা হত এই রথগলি দিয়ে তাই তারাপুড়ের বিলাসবহুল হাওয়াখানা ভবনটি আজও পুঠিয়া রাজার ঐতিহ্য ও এলাকার শোভাবর্ধন এবং বিনোদন প্রেমিদের বিনোদনের স্পর্ট হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে আছে। তবে হাওয়াখানা ভবনটি পুঠিয়া রাজবংশের কোন রাজার তৈরি তা আজও জানাযায়নি তবে রাজা নরেশ নারায়ণ রায় ভবনটি সর্বশেষ ব্যবহার কারী রাজা বলে জানাযায়।

 

ভবনটিতে রাজাবাহাদুর স্ববান্ধবে আমদ ফুর্তি দাবা, তাশ, পাশা ইত্যাদি খেলেও অবসর সময় কাটাতেন। এতেই বোঝা যায় পুঠিয়ার রাজাবাহাদুরেরা অত্যন্ত সৌখিন প্রকৃতির ছিলেন। দেশ বিভাগের সময় রাজা নরেশ নারায়ণ রায় বাংলাদেশ ছেড়ে কলকাতায় যাবার কালে গনী মন্ডল ও দেলজার মন্ডল নামে দুই কর্মচারিকে হাওয়াখানা দিঘীটি পওন দিয়ে যান ফলে দিঘীর মাঝামাঝি বাধ দিয়ে ভাগাভাগী করা হয়। বর্তমানে দিঘির পশ্চিম পার্শের বাধের ওপরদিয়ে তৈরি করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন পথ। অনেক বছর যাবত অযতœ অবহেলায় পরে থাকায় কালের গহবরে যেতে বসেছিল ভবনটি।

 

বর্তমান সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ভবনটি সংস্কারের উদ্দ্যোগ নেয় সরকার। প্রতœতন্ত্র অধিদপ্তরের রির্চাজ এসিস্ট্যন্ড কাষ্টরিয়ান শাওলি তালুকদার জানাযায়, বর্তমানে ভবনটির সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে ভবনটির সংস্কার ব্যয় হয়েছে ২২ লক্ষ টাকা এবং হাওয়াখানা ভবনে প্রবেশের জন্য নির্মিত রাস্তার ব্যয় হয়েছে ১৫ লক্ষ টাকা তবে এখনও সর্বসাধারণের জন্য ভবনটি উন্মুক্ত করা হয়নি।

 

স্থানীয়  এলাকাবাসীরা বলেন, হাওয়াখানা ভবনটি দীর্ঘদিন অযতœ অবহেলায় পড়ে থাকার পর  সংস্কার করায় আবারো হারানো যৌবন ফিরে পেয়েছে ভবনটি। তারা আরো বলেন, দিঘির চার পাসের পারগুলো ভালোভাবে বেধে রং বেরঙ্গের আলো দিয়ে সাজানো হলে এবং ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ভাসানো হলে দিঘিসহ হাওয়াখানা ভবনের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধিপাবে।

 

এব্যপারে জানতে চাইলে, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান বলেন দিঘির সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য দিঘির চার পাসে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। এবং দিঘিতে আসার রাস্তাটিও সংস্কার করা হবে। দিঘিতে ডিঙ্গি নৌকা ভাসানোর ব্যপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু দিঘিটি ব্যক্তী মালিকানাধীন সেহেতু দিঘিতে ডিঙ্গি নৌকা ভাসানো সম্ভব হচ্ছে না।

 

স/আ