অর্থ ও বাণিজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি কমবে ৫০ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক৮ আগস্ট ২০২৫৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :

ভারতের পণ্য আমদানিতে দুই দফায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দফায় পাল্টাশুল্ক ২৫ শতাংশ, আর দ্বিতীয় দফায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল ক্রয়ের শাস্তিস্বরূপ ২৫ শতাংশ। বিপুল এই শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনেক দামি হয়ে পড়বে ভারতীয় পণ্য। এতে দেশটির রপ্তানি খাত বড় ধরনের ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

থিংকট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনেশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানায়, এতে মার্কিন বাজারে ভারতের পণ্য রপ্তানি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ভারতের চামড়া, রাসায়নিক, জুতা, রত্ন ও গয়না, বস্ত্র ও চিংড়ি রপ্তানি খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জিটিআরআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কের ফলে ভারতের জৈব রাসায়নিক খাতে অতিরিক্ত ৫৪ শতাংশ শুল্ক আরোপিত হবে। আরো যেসব খাতে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ হবে, তার মধ্যে রয়েছে কার্পেট (৫২.৯ শতাংশ), নিট পোশাক (৬৩.৯ শতাংশ), তাঁতবস্ত্র (৬০.৩ শতাংশ), তৈরি টেক্সটাইল (৫৯ শতাংশ), হীরা, সোনা ও গয়না (৫২.১ শতাংশ), যন্ত্রপাতি ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম (৫১.৩ শতাংশ), আসবাব, গদি ও ম্যাট্রেস (৫২.৩ শতাংশ)।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে ১৩১.৮ বিলিয়ন বা ১৩ হাজার ১৮০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রপ্তানি ৮৬.৫ বিলিয়ন বা ৮৭ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার এবং আমদানি ৪৫.৩ বিলিয়ন বা চার হাজার ৫৩০ কোটি ডলার। কলকাতাভিত্তিক সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানিকারক কম্পানি মেগা মোডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক যোগেশ গুপ্ত বলেন, এখন ভারতের চিংড়ি যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বেশি দামে বিক্রি হবে। ইকুয়েডরের সঙ্গে ভারতের প্রতিযোগিতা এখনই তীব্র, তাদের শুল্ক মাত্র ১৫ শতাংশ।

ভারতীয় চিংড়িতে এরই মধ্যে ২.৪৯ শতাংশ অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক ও ৫.৭৭ শতাংশ কাউন্টারভেলিং ডিউটি আছে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন শুল্ক।
ভারতীয় বস্ত্রশিল্পের শীর্ষ সংগঠন সিআইটিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারতের জন্য কার্যত ৫০ শতাংশ শুল্কহার গভীর উদ্বেগের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড়বাজার।

সংগঠনটি বলেছে, ‘৬ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত শুল্ক ভারতের বস্ত্র ও পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য বিশাল ধাক্কা।

আগেই আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে ছিলাম। এই নতুন শুল্কের কারণে তা আরো জটিল হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের প্রতিযোগিতার শক্তি কমে যাবে।’ সরকারের প্রতি তাঁরা আহ্বান জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে খাতটিকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
কামা জুয়েলারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কলিন শাহ বলেছেন, এই পদক্ষেপ ভারতের রপ্তানিতে বড় ধরনের আঘাত। কেননা যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ৫৫ শতাংশ এই শুল্কের আওতায় পড়বে। কলিন শাহ আরো বলেন, ‘৫০ শতাংশ পাল্টাশুল্ক কার্যত আমাদের রপ্তানিকারকদের ৩০-৩৫ শতাংশ প্রতিযোগিতামূলক বাধার মুখে ফেলেছে। অনেক কার্যাদেশ এরই মধ্যে স্থগিত হয়েছে। পণ্যের চূড়ান্ত খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সে কারণে ক্রেতারা নতুন করে উৎস যাচাই করছেন, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পনির্ভর খাতগুলোর জন্য এ খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। মুনাফার হার এমনিতেই কম। এ ধাক্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনের ক্রেতা হারাবে। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের বিপুল শুল্ক আরোপের এই সিদ্ধান্তে অনেক বিশেষজ্ঞই বিস্মিত হয়েছেন। কারণ ভারতই প্রথম কয়েকটি দেশের মধ্যে ছিল যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বসেছিল। সূত্র : রয়টার্স, এনডিটিভি, লাইভমিন্ট