নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর মোহনপুরে অবৈধভাবে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় এক্সকাভেটরের নিচে ফেলে কৃষক আহমেদ জোবায়েরকে (২৩) নৃশংসভাবে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে মোহনপুর ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
‘মোহনপুর উপজেলা নাগরিক কল্যাণ কমিটি’র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সকাল থেকেই মোহনপুর উপজেলা চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মিছিলটি উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে ইউএনওকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

এর আগে সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিহত কৃষক আহমেদ জোবায়েরকে হত্যার ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস, নির্মম ও মানবতাবিরোধী। দ্রুত প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ আরও বাড়বে। এ কারণে অবিলম্বে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে মোহনপুর উপজেলা নাগরিক কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে ইউএনওর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে ১২১ জন কৃষকের স্বাক্ষর রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, কৃষি কাজই তাদের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তারা লক্ষ্য করছেন, এক শ্রেণির ভূমিদস্যু দীর্ঘদিন ধরে কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর রাতে প্রশাসনের কোনো অনুমতি ছাড়াই উপজেলার ভীমনগর গ্রামের মুন্তাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন ও রুবেল হোসেন, মুনসুর আলীর ছেলে জাকির হোসেন, আব্দুল মজিদের ছেলে আনিসুর রহমান বকুল এবং ভাতুড়িয়া গ্রামের আব্দুল আলিম খামারুর ছেলে বিপ্লবের নেতৃত্বে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে জোরপূর্বক পুকুর খনন শুরু করা হয়।
স্থানীয় জনসাধারণ এতে বাধা দিলে ভূমিদস্যুদের নির্দেশে এক্সকাভেটর মেশিনের চালক আবদুল হামিদ জমির মালিকের ছেলে আহমেদ জোবায়েরকে এক্সকাভেটরের বাকেট দিয়ে আঘাত করেন। এতে জোবায়ের মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে এক্সকাভেটরের চাকায় পিষ্ট করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য তৎপরতা দেখা যায়নি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে স্মারকলিপিতে অবিলম্বে সকল প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, এক্সকাভেটর মেশিনের চালককে দ্রুত রিমান্ডে নেওয়া, মোহনপুর উপজেলায় কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং নিহত আহমেদ জোবায়েরের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রশাসন সব সময় অবৈধ পুকুর খননসহ যেকোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে রয়েছে। তিনি এই কৃষক হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কৃষকদের ন্যায্য দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।









