রাজশাহী

রাজশাহীতে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মাকে মারপিট: বাড়িঘর ভাংচুর

নিউজ ডেস্ক৩ নভেম্বর ২০১৬৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজশাহী নগরীতে মেয়েকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মাকে মারপিট ও বাড়িঘর ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। গত সোমবার সকালে নগরীর হাজরাপুকুর রেল কলোনী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। এমনকি থানায় অভিযোগও করতে যেতে পারছে না।

 

জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে রেল কলোনী এলাকার খাইরুল ইসলামের ১৪ বছরের মেয়েকে উত্যক্ত করে আসছিল ওই এলাকার খলিলের ছেলে হেল্লাল। গত দেঢ় মাস পূর্বে হেল্লাল ওই মেয়েকে জোর করে ৫০০ টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে কুপ্রস্তাব দেয়।

 

এ বিষয়টি মেয়েটি তার মাকে জানালে পরদিন মা শ্যামলী হেল্লালের বাসায় গিয়ে নিষেধ করতে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এরপর লোকলজ্জার ভয়ে শ্যামলী তাদের বাসায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে এ বিষয়টি স্বামী খাইরুল ইসলামকে জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় নগরীর বোয়ালিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ তুলে নিতে হেল্লাল মেয়েকে তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে খাইরুল ইসলাম ও স্থানীয়রা হেল্লালকে মারধোর করে।

14922910_1825631291059308_394531023_o-copy

ওই ঘটনার জের ধরে গত সোমবার হেল্লাল তার লাইলী বেগম ভুক্তভোগী মেয়েকে রাস্তায় ফেলে মারপিট করে আহত করে। পরে হেল্লাল ও তার ১০-১২ জন সহযোগী নিয়ে খাইরুল ইসলামের বাসায় সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

 

এ সময় খাইরুল ইসলামকে না পেয়ে স্ত্রী শ্যামলীকে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করে হেল্লাল ও তার মা লাইলী। এরপর হকি, কান্তা, জিআই পাইপ রামদাসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঘরবাড়ি তছনছ করে দেয়।

 

14954433_1825631401059297_548835954_o

আহত শ্যামলী ও তার পরিবারের সদস্যরা সিল্কসিটি নিউজের অফিসে এসে অভিযোগ করে বলেন, পূর্বে মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ জানালে আমাদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিত লাইলী এবং তার ছেলে হেল্লাল। এরই জের ধরে সোমবার সকালে বাজারে যাওয়ার সময় তারা আমার মেয়েকে মারধোর করে। হাতের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। এরপর রাস্তায় সবার সামনে আমার মেয়েকে মারধোর করে শ্লীলতা হানির চেষ্টা করে। পরে তারা এসে আমাকে ও আমার মেয়েকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে আর বলে টিটু কমিশনার আমাদের অর্ডার দিয়েছে।’

 

শ্যামলী অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘আমাকে মারার সময় আমার মেয়ে পালিয়ে গেলে তাকে তাড়া করে ধরে আবারো মারধোর করে। হামলার সময় নগদ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণের মালা, জমির কাগজ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বাড়ির জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। এমনকি পানি খাওয়ার গ্লাসটি পর্যন্ত রাখেনি তারা।’

14971079_1825636457725458_655482101_o-copy

আহত শ্যামলীর স্বামী খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে হামলার পর স্থানীয় ১৯ নং ওয়ার্ড কমিশনার নুরুজ্জামান কমিশনারে কাছে গেলে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান এবং মামলা না করার নির্দেশ দেন। তিনি জীবন বাঁচিয়ে আপোষ করে নেয়ার পরামর্শ প্রদান করেন। এদিকে বাড়িতে হামলা করার পরে থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানার লোক দিয়ে আটকে দেয়ার হুমকি দেয় হেল্লাল। থানায় অভিযোগ করতে গেলে রাস্তাতেই প্রাণ নাশের হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। সেই সাথে আমার আরেক মেয়ের জীবন নষ্টের হুমকিও প্রদান করে তারা।

 

খাইরুল ইসলাম আরো বলেন, থানায় গেলে বোয়ালিয়া থানার এসআই মোস্তফাকে দিয়ে থানাতেই আটকে দেয়ার ভয় দেখাচ্ছে হেল্লাল। থানায় যেতে লাগলে আমার মেয়েকে নষ্ট করে ফেলবে আর আমাকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। প্রাণ ভয়ে আমরা থানায় যেতে পারছি না। এলাকায় তাদের প্রভাব আছে বলে এলাকাবাসিও কেউ কিছু বলছে না। প্রাণের ভয়ে বাড়িতেও যেতে পারছি না। আমাদের এলাকা থেকে উচ্ছেদ করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।’

 

তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। আমি কোনভাবে এদিক ওদিক ঘুরে দিন কাটাচ্ছি। রাতে বাসায় গিয়ে দেখি মা ছেলে চাদর নিয়ে রাস্তায় শুয়ে আছে। আর তাদের ভয়ে আমাদের পাশে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। এতো বড় একটা ঘটনা ঘটল এখনো পুলিশও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এমনকি তদন্ত করতেও আসল না।’

 

খাইরুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুই মেয়ে আর ছোট এক ছেলেকে নিয়ে আমরা এখন কোথায় যাব?’

 

এদিকে ঘটনার পর থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে চারদিন ধরে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারটি। সন্ত্রাসীদের হুমকিতে থানায় যাওয়ার সাহস পায়নি তারা। আহত মেয়েকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়ে কোন মতে খোলা আকাশের নিচে দিন পার করতে হচ্ছে ওই পরিবারটিকে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদত হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। থানায় কোন অভিযোগ হয়েছি কিনা এই মুহুর্তে বলতে পারছি না।

স/আর