সিল্কসিটিনিউজ ক্রীড়া ডেস্ক:
আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি যদি না খেলেন তাহলে কি হবে? একবারও চিন্তা করে দেখেছেন? ফুটবলপ্রেমীরা ভাবছেন, আর্জেন্টিনা ফুটবল হারাবে একজন সুপারস্টারকে, দ্বিতীয়ত কখনোই বৈশ্বিক কোনো শিরোপা পাবে না আর্জেন্টিনা! কিন্তু এর থেকেও বড় ক্ষতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
মেসি যদি তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তাহলে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বড় ‘ধাক্কা’ হজম করতে হবে। মেসির অবসরে ২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ)!

ফিফা ম্যাচ আয়োজক গুলেরমো টোফোনি বলেছেন, ‘মেসি যদি আর্জেন্টিনা দলে না ফেরেন তাহলে ২০১৮ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত এএফএ ২০ থেকে ২৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। ক্ষতির পরিমাণ আরো বেড়ে যেতে পারে।’
২০২২ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলার ইচ্ছে ছিল আর্জেন্টাইন জাদুকরের। যদি ২০২২ বিশ্বকাপের হিসাব আনা হয় এএফএর ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হবে! গুলেরমো টোফোনি জানিয়েছেন, ইতালি, স্পেন ও চীন এরই মধ্যে তার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চেয়েছে। মেসির অবসরের ঘোষণার পর পেমেন্ট নিয়ে নতুন আলোচনা করতে চাইছে দেশগুলো। টোফোনির দাবি, ‘রাশিয়া এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে মেসি যদি আগামী বছরের জুনে প্রীতি ম্যাচে অংশ না নেয়, তাহলে মোট পেমেন্টের এক মিলিয়ন ডলার কম পরিশোধ করা হবে।’
জানা গেছে, মেসিসহ প্রীতি ম্যাচ খেলতে ম্যাচপ্রতি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হয়। এদিকে আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রতিনিধি জাভিয়ের মেডিন বলেছেন, ‘মেসির থাকা- না থাকা যদি আমরা হিসাব করতে যাই তাহলে আমরা ৫০ শতাংশ ক্ষতির মুখোমুখি হব। এখানে এএফএর ব্যবসায়িক দিকটিও আসবে। বিশেষ করে টিকিট বিক্রি, ব্রডকাস্ট স্বত্ব এবং স্পনসরশিপে আঘাত করবে।’
ক্ষতির বিষয়ে সরাসরি এএফএর কর্মকর্তারা কথা বলতে নারাজ। বিষয়গুলো মাথায় নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিচিও মাকরি মেসিকে জাতীয় দলে ফিরতে অনুরোধ করেছেন। পুরো আর্জেন্টিনা মেসিকে ফিরে পেতে মরিয়া। অলিগলিতে, স্টেশন, বিমানবন্দর এলাকায় একটি প্ল্যাকার্ড সবার চোখের সামনে, ‘ডোন্ট গো লিও’।
টোফোনি জানিয়েছেন, ২০২২ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত ২৮টি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। তবে মেসি সত্যিই তার সিদ্ধান্ত না পাল্টালে ম্যাচের সংখ্যা কমে আসবে! ২৮টি ম্যাচের মধ্যে ১৬টি ঘরের মাঠে খেলার কথা আর্জেন্টিনার। ফিফার কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ঘরের মাঠে প্রতিটি ম্যাচে টিকিট বিক্রিতে কমপক্ষে এক মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ পর্যন্ত শুধু টিকিট বিক্রিতে ক্ষতির পরিমাণ হবে ১৬ মিলিয়ন ডলার।’
টানা তিন বছর তিনটি শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় ‘ক্ষোভে’ জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে যাওয়ার পর জাতীয় দলকে আচমকা বিদায় বলে দেন মেসি। তার বিদায়ে অবাক সবাই।
ফুটবল সমর্থকরা তাকে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনা মেসিকে ২০১৮ বিশ্বকাপ খেলতে বলেছেন। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিচিও মাকরিও মেসিকে বুঝিয়েছেন। আর্জেন্টিনাকে বাঁচানোর দায়িত্বটা এখন মেসির কাঁধেই!
সূত্র: রাইজিংবিডি









