সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ইসলামের ইতিহাসে সিফফীনের যুদ্ধ ছিল মুসলিমদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক মতবিরোধজনিত যুদ্ধ। আহনাফ ইবন কায়েস (রহ.) সিফফীনের যুদ্ধে হযরত আলী (রা)-এর পক্ষ নিতে যাচ্ছিলেন। পথে হযরত আবূ বকরাহ্ (রা.) তাঁকে নিচের হাদিস শুনিয়ে যুদ্ধ থেকে ফিরিয়ে দেন।
عَنِ الأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ ذَهَبْتُ لأَنْصُرَ هَذَا الرَّجُلَ، فَلَقِيَنِي أَبُو بَكْرَةَ فَقَالَ أَيْنَ تُرِيدُ قُلْتُ أَنْصُرُ هَذَا الرَّجُلَ. قَالَ ارْجِعْ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ” إِذَا الْتَقَى الْمُسْلِمَانِ بِسَيْفَيْهِمَا فَالْقَاتِلُ وَالْمَقْتُولُ فِي النَّارِ ”. فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا الْقَاتِلُ فَمَا بَالُ الْمَقْتُولِ قَالَ ” إِنَّهُ كَانَ حَرِيصًا عَلَى قَتْلِ صَاحِبِهِ ”.

অর্থ: আহনাফ ইবনে কায়স (রহ.) হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন, আমি (সিফফীনের যুদ্ধে) এ ব্যক্তিকে (আলী (রা.)-কে) সাহায্য করতে যাচিছলাম। আবু বকরাহ্ (রা.)-এর সঙ্গে আমার দেখা হলে তিনি বললেন: ’তুমি কোথায় যাচ্ছ?’ আমি বললাম, ’আমি এ ব্যক্তিকে সাহায্য করতে যাচ্ছি।’ তিনি বললেন: ’ফিরে যাও। কারণ আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, দু’জন মুসলিম তাদের তরবারি নিয়ে মুখোমুখি হলে হত্যাকারী এবং নিহত ব্যক্তি উভয়ে জাহান্নামে যাবে।
’ আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসুল্! এ হত্যাকারী (তো অপরাধী), কিন্তু নিহত ব্যক্তির কী অপরাধ? তিনি বললেন, (নিশ্চয়ই) সেও তার সাথীকে হত্যা করার জন্য উদগ্রীব ছিল।’
-(বুখারি, হাদিস : ৩১)
সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
কেন নিহতও জাহান্নামের অধিবাসী হতে পারে?
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে: “নিহতও জাহান্নামে যাবে, কারণ সে-ও প্রতিপক্ষকে হত্যার অভিপ্রায় নিয়ে লড়াই করছিল।”
এখানে মূল বিষয় ইচ্ছা ও নিয়ত। আল্লাহ শুধু কাজ নয়, কাজের পেছনের উদ্দেশ্যও বিচার করেন।
যদি উদ্দেশ্য ন্যায় নয়, বরং হত্যা ও প্রতিশোধ হয় তাহলে গুনাহ সমান।
এই হাদিস থেকে শিক্ষা
১. মুসলিম বনাম মুসলিম সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকা ফরজের ন্যায় জরুরি। কোরআনুল কারিমে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে-
وَإِن طَآئِفَتَانِ مِنَ ٱلْمُؤْمِنِينَ ٱقْتَتَلُواْ فَأَصْلِحُواْ بَيْنَهُمَا
“আর যদি মুমিনদের দুই দল পরস্পর যুদ্ধ করে, তবে তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও।” (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ৯)
২. ইচ্ছা ও নিয়তের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজেই হত্যা না করলেও যদি হত্যার আকাঙ্ক্ষা থাকে তা গুনাহের অংশীদার করে দেয়।
৩. মুসলিমদের পরস্পরের বিবাদের সময় নিরপেক্ষ থাকাই উত্তম। সাহাবীগণ (যেমন আবূ বকরাহ্ রাযি.) দেখিয়েছেন, সন্দেহজনক বা ফিতনামূলক যুদ্ধে অংশ না নিয়ে শান্তি রক্ষার চেষ্টা করাই নিরাপদ।
৪. তেমনি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের নামে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব নষ্ট করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। কারণ রাজনৈতিক বা নেতৃত্বের মতবিরোধ যদি সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন উভয় পক্ষই গুনাহগার হতে পারে।









