সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
দৈনন্দিন জীবনের মানসিক চাপ, অনিদ্রা, ব্যস্ততা আর অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—এসব কিছু শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই হরমোনকে বলা হয় স্ট্রেস হরমোন, যা শরীরকে বিপদের সময় সজাগ থাকতে সাহায্য করে। কিন্তু কর্টিসল হরমোন দীর্ঘদিন ধরে বেশি থাকলে তখন তা শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলেই কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

বিশেষ করে কিছু খাবার ও অভ্যাস শরীরে প্রাকৃতিকভাবে শান্তি ফেরাতে এবং মনের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। কী সেসব খাবার, জেনে নিন—
রঙিন ফল ও সবজি
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি, যেমন বেরি, ব্রকলি, পালং শাক, বেল পেপার রাখুন। এগুলোতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও পলিফেনল থাকে। এটি শরীরে জমে থাকা ফ্রি-র্যাডিক্যাল কমিয়ে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টসমৃদ্ধ খাবার শরীরের প্রদাহ কমায়। আর এটি সরাসরি কর্টিসল কমাতে সহায়ক।
সীমিত পরিমাণে ডার্ক চকোলেট
বিশেষজ্ঞরা জানান, ৭০% বা তার বেশি কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকোলেট শরীরে ফ্ল্যাভোনয়েড সরবরাহ করে। আর এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
অতিরিক্ত না খেয়ে প্রতিদিন এক টুকরা ডার্ক চকোলেট খেলে তা প্রাকৃতিকভাবে মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে।
গোটা শস্যজাতখাবার
ওটস, ব্রাউন রাইস, কিনোয়ার মতো খাবারে থাকা ফাইবার রক্তে চিনির ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হঠাৎ ওঠা-নামা করলে শরীর কর্টিসল উৎপাদন করে। ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো রাখে, যা মানসিক সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
গ্রিন টি
গ্রিন টি-তে থাকা এলথিয়ানিন নামক অ্যামিনো এসিড মস্তিষ্কে প্রশান্তি আনে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এটি কর্টিসলের মাত্রা কমায় এবং ঘুমের গুণগত মান উন্নত করে। প্রতিদিন সকাল বা বিকেলে এক কাপ গরম গ্রিন টি মন ও শরীরকে শান্ত রাখে।
প্রো-বায়োটিক খাবার
অন্ত্র ও মস্তিষ্কের মধ্যে গভীর সংযোগ রয়েছে। দই, কিমচি, কাফির, ইডলি, আচার ইত্যাদির মতো ফারমেন্টেড খাবারে থাকা প্রো-বায়োটিক ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক রাখে, যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রো-বায়োটিক নিয়মিত খেলে মেজাজ উন্নত হয়, ঘুম ভালো হয় এবং কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে থাকে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট
ওমেগা–৩ ফ্যাটি এসিডযুক্ত খাবার যেমন স্যামন মাছ, আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড, চিয়া সিড ইত্যাদি মস্তিষ্কে প্রদাহ কমায় এবং কর্টিসল নিঃসরণ কমায়। এই স্বাস্থ্যকর ফ্যাট মুড স্ট্যাবিলাইজার হিসেবেও কাজ করে।
পর্যাপ্ত পানি
অনেক সময় অল্প পরিমাণ ডিহাইড্রেশনও কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনে অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মেটাবলিজম ও হরমোনের ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে।
খাবারের অভ্যাসে পরিবর্তন
শুধু কী খাচ্ছেন তাই নয়, কিভাবে খাচ্ছেন তাও কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া ধীরে ধীরে ও মনোযোগ দিয়ে খান। খাওয়ার সময় টিভি বা মোবাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। খিদে পেলেই খান এবং পরিমিত খাওয়া শেষে থামুন। এই অভ্যাসগুলো ‘মাইন্ডফুল ইটিং’–এর অংশ, যা শরীরের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
মনে রাখবেন, স্ট্রেস কমাতে শুধু মেডিটেশন বা ব্যায়াম নয়, সঠিক খাবারও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শরীরকে ভালো রাখতে প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে প্রাকৃতিক ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। এতে কর্টিসল স্বাভাবিক থাকবে, ঘুম ভালো হবে, আর মনও থাকবে শান্ত।
সূত্র : আজকাল









