সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সহিংসতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এই আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, জ্বালাও পোড়াও এবং তাদের ধনসম্পদ লুট করছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তারা রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে আসিয়ান নেতাদের বৈঠকের মধ্যে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ প্রতিবেদন প্রকাশ করল।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক সংগঠন আসিয়ান সাধারণত কোনো সদস্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা এক টেবিলে বসেছেন, যা বিরল ঘটনা।
অক্টোবর মাসে রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা চৌকিতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের হামলায় নয়জন নিহত হওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এরপর থেকে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এই রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে মিয়ানমার।
নভেম্বর মাসে জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা দাবি করেন, রাখাইনে ‘রোহিঙ্গা নিধন’ শুরু করেছে মিয়ানমার। সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ রোহিঙ্গাদের জ্বালিয়ে দেওয়া গ্রামগুলোর চিত্র প্রকাশ করেছে।
মানবিক মহাবিপর্যয়
ভুক্তভোগী ৩৫ জন রোহিঙ্গা এবং এ-সংক্রান্ত ২০ জন প্রতিবেদকের সাক্ষাৎকারও নিয়েছে অ্যামনেস্টি। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে ‘মানবিক মহাবিপর্যয়’ হয়েছে। রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে খুন, খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার-আটক ও ধর্ষণ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ধনসম্পদ ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি বাড়ি। স্কুল ও মসজিদের মতো পবিত্র ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি বলছে, উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর তৎপরতা ‘বৃহৎ পরিসর ও কৌশলগতভাবে’ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হামলারই অংশ।
সেনাবাহিনীর হামলায় কতসংখ্যক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই। কারণ সেখানে মানবাধিকার ও সংবাদকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।
অ্যামনেস্টির হিসাবমতে, সহিংসতা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৭ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তবে আশ্রয়প্রার্থী রোহিঙ্গাদের ফেরত দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকার ও অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। একইসঙ্গে মানবাধিকার হরণের জন্য মিয়ানমার সরকারের ভৎর্সনা করে রাখাইন রাজ্যে সবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ ইস্যুতে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করেছে সংস্থাটি।
সূত্র: রাইজিংবিডি









