জাতীয়

মাঠ বুঝে স্বতন্ত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আ.লীগ

নিউজ ডেস্ক২০ ডিসেম্বর ২০২৩৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

সমঝোতার ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া ৩২ আসনসহ প্রায় সব আসনেই রয়েছেন স্বতন্ত্র। প্রার্থী হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা। এসব স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি ১৪ দল এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

শতাধিক আসনে নৌকা, লাঙল এবং ১৪ দলের প্রার্থীদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, বেশির ভাগ আসনে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশই স্বতন্ত্রদের সঙ্গে কাজ করছেন। কোনো কোনো আসনে আবার নৌকার তুলনায় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই নেতাকর্মী বেশি।

ভোটের মাঠের এমন পরিস্থিতির কারণে নৌকার প্রার্থী ও জোট-জাপার প্রার্থীরা রয়েছেন অস্বস্তিতে। কোথাও কোথাও নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের সংঘাতে জড়াতে দেখা গেছে। এমন বাস্তবতায় দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বসিয়ে দিতে যেমন দলীয় প্রার্থীদের চাপ বাড়ছে আওয়ামী লীগের ওপর; আবার শরিক দল এবং জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও এ নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দেন-দরবার চলছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরানোর বিষয়ে ভাবছে না। ভোটের মাঠের চিত্র দেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে দলের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচন বেশি চ্যালেঞ্জিং। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে নেওয়া এর মধ্যে একটা। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা থাকলে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বেশি হতে পারে ধারণা আওয়ামী লীগের। বিএনপির মতো একটি দল নির্বাচনে না আসায় ভোটের জমজমাট চিত্র ধরে রাখতে এ সিদ্ধান্তে গেছে আওয়ামী লীগ। অবশ্য দল মনে করলে কোথাও কোথাও স্বতন্ত্রদের সরিয়ে দিতে পারে। তবে সব জায়গায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা খুবই কম। এদিকে গত সোমবার রাতে নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের কেন্দুয়া উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের মাসকা বাজারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মিছিলে হামলা হয়। এতে আহত হন অন্তত ১০ জন।

পাবনা-১ আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু সাইয়িদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বোয়াইলমারী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সাইয়িদ এ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেন।

গতকাল দুপুরে সরিষাবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের প্রধান সড়কে জামালপুরের সরিষাবাড়িতে নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রশীদের দুই সমর্থক আহত হন।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নের চপই বাজারে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

সোমবার বিকাল মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের নতুন চরচাষী এলাকায় নৌকার প্রার্থী মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ফয়সল বিপ্লবের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন ৬ জন।

এছাড়া মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ভাঙা, কুমিল্লার দাউদকান্দি, ব্রাহ্মবাড়িয়া সদর আসন, নেত্রকোনা সদর এবং সমঝোতার ৩২ আসন বাদে সব আসনেই রয়েছে এ জটিলতা। তবে চৌদ্দ দলের প্রার্থীরা পুরোপুরি মাঠে নামলে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বরিশাল-৩ আসনের ১৪ দলের প্রার্থী রাশেদ খান মেনন জানান, প্রত্যাহার করে নেওয়া নৌকার প্রার্থী তার পক্ষে কাজ করছেন। কিন্তু জটিলতা আছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর। তিনি মনে করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সরিয়ে নেওয়া উচিত। রাশেদ খান মেনন বলেন, এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরা থাকলে চৌদ্দ দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘আমার ওখানে (কুষ্টিয়া-২) আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রার্থী আছে। আমাকে জোটগতভাবে মনোনয়ন দিলেও যেহেতু স্বতন্ত্র র্প্রার্থী আওয়ামী লীগের নেতা ফলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষেই প্রচারণার চেষ্টা চালাচ্ছে। জোটের প্রার্থী সম্পর্কে আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কমিটিগুলো কী করবে তা দেখার বিষয় আছে।’ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরানোর বিষয়ে আওয়ামী লীগকে বলা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেহেতু এটা জোটগত সিদ্ধান্তের বিষয়, ফলে এখানে আওয়ামী লীগ বনাম শরিক দল করে দিলে রাজনৈতিকভাবে বিব্রতকর হয়। তাই আমরা বলেছিলাম, এখনো বলছি আওয়ামী স্বতন্ত্র প্রত্যাহার করে নিতে। এখন আওয়ামী লীগ কী করে দেখা যাক।’

জাপার নেতাদের ভাষ্য, এভাবে সমঝোতা কৌশলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেখে দেওয়ার বিষয়টি তাদের বোধগম্য নয়। অতি দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান দলটির একজন শীর্ষ নেতা।

নৌকার প্রার্থীরা বলছেন, মাঠে দলের নেতাকর্মীদের তারা পাচ্ছেন না। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, পুলিশ প্রশাসন তাদের সহায়তা করছে।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘এখন তো আর এসব বিষয়ে আলাপের সময় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়ও শেষ হয়ে গেছে এবং সবাই এখন নির্বাচনে আছে। কে নির্বাচনে জিততে পারবে কি পারবে না, সেটা নিয়ে নতুন করে ভাববার সুযোগ নেই। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জয়ী হতে যদি না পারে, তাহলে তাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক হবে। যাদের জনগণের প্রতি আস্থা আছে তাদের ভোটে শঙ্কা কেন?’

 

 

ট্যাগ: