সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
দাবি আদায়ে গুলশান লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার দুপুর ১২টার পর তারা সড়কের ওপর বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। অবরোধ চলাকালীন অ্যাম্বুলেন্স ও রোগী পরিবহনের গাড়ি ছাড়া অন্য গাড়ি চলতে দেবেন না।

আজ বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করবেন বলে গতকাল রাতে ঘোষণা দিয়েছিলেন। মহাখালীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, রেল গেট, আমতলী মোড়, গুলশান লিংক রোড এই কর্মসূচির আওতায় থাকবে বলে তারা জানান।
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন তিতুমীর ঐক্যের উপদেষ্টা মাহমুদুল হাসান মুক্তার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে। আজকে অবরোধের কর্মসূচি আমরা গতকালই ঘোষণা করেছিলাম।
কিন্তু বিশ্ব এজতেমার জন্য বেলা ১১টা থেকে অবরোধ শিথিল করেছিলাম। কিন্তু আগামীকাল বেলা ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ফের অবরোধ ঘোষণা করছি। এর আওতায় থাকবে মহাখালী, রেল গেট, আমতলী ও গুলশান লিংক রোড। এর আগে আমরা বিশেষ বিবেচনায় আমাদের কর্মসূচি শিথিল করেছিলাম।
কিন্তু আগামীকাল থেকে আর শিথিল করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের পর আমাদের একটি ধারণা হয়েছিল যে, শিক্ষার্থীবান্ধব একটি রাষ্ট্র হবে। যারা শিক্ষার্থীদের কথাগুলো চিন্তা করবে। আমাদের এসব কর্মসূচির জন্য অনেকেই আমাদের ওপর রাগ করে আছেন। আমরা তাদের কাছে ক্ষমা চাই। আমরা আপনাদের সন্তান। রাষ্ট্র আমাদের সঙ্গে দ্বিচারিতা করছে।
এদিকে দাবি আদায়ে ১০ জন শিক্ষার্থী গত পাঁচ দিন ধরে তিতুমীর কলেজ গেটের সামনে অনশন করছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর অন্যদের স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে বেশ কয়েকমাস ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। এই দাবিতে মিছিল, সড়ক-রেলপথ অবরোধ, স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাই-বাছাই করতে শিক্ষ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়। তবে সম্প্রতি এ বিষয়ে ইতিবাচক কোনো সাড়া না পেয়ে গত ২৯ জানুয়ারি বিকেল থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।









