রাজশাহী

মশাও মারতে পারেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত রাসিক মেয়র নিযাম

নিউজ ডেস্ক৪ ডিসেম্বর ২০১৬৩ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

শীতের মাঝামাঝি এসেও মশার যন্ত্রনায় রাজশাহী নগরবাসী যেন ছটপট করছেন। দিন কিংবা রাত কোনো সময় মশার অত্যাচার যেন থেমে নেই। একটু আঁধার স্থানেই মানুষের ওপর হামলে পড়ছে মশা।

 

  • ঘরে অথবা বাইরে সবখানেই মশা আর মশা। যেন নিস্তার নাই মশার আক্রমণ থেকে-এই অবস্থা বিরাজ করছে নগরীতে। অথচ সিটি করপোরেশন এ নিয়ে কোনো পদক্ষেক গ্রহণ করছে না। এমনকি নগরীর ড্রেনগুলো পরিস্কারেরও কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

mos

কোথাও কোথাও ভাঙা ড্রেনের পানি রাস্তা ওপরে উঠে জমা হয়ে থেকে সেখানে জন্ম নিচ্ছে মশা।

 

  • নগরবাসীর অভিযোগ, গোটা নগরীর উন্নয়নকাজ যেমন থমকে গেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র নিযামের অযোগ্যতার কারণে। একজন কাউন্সিলর হয়ে গোটা নগরী চালাচ্ছেন। এই অবস্থায় নগরীর উন্নয়ন তো দূরহ ব্যাপার, সামান্য মশাও মারতে পারছেন না মেয়র। ফলে নগরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

 

সরেজমিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী নগরজুড়ে বেড়েছে মশার উৎপাত। কয়েল এ্যারোসল কিংবা অন্য কোন উপায়েও মশার যন্ত্রণা থেকে রেহাই মিলছে না নগরবাসীর।

mos20141019204035

বিশেষ করে সন্ধ্যার পর মশার কামড়ে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া করতে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সমাপনী পরীক্ষার্থীরা এবং আগামী এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়েছেন বেশি বিপাকে। মশার কামড়ে ঘরে টেবিলে বসে থেকে পড়া দায় হয়ে পড়ছে তাদের।

 

আবার অফিস-আদালতেও মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অফিসের টেবিলের নিচেই যেন মশারা ওঁৎ পেতে থাকে কখন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসে বসবেন আর তাদের রক্ত চুষবে মশারা।

 

রাজশাহী ল্যাবরেটরী স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাইয়াজ হোসেন সিল্কসিটি নিউজকে বলে, সামেন পরীক্ষা। এখন বসে থাকার সময় নাই। কিন্তু টেবিলে গিয়ে বসলেই মশারা হামলে পড়ছে। মশার উৎপাত এত বেড়ে গেছে, কয়েল কিংবা অন্য কোন উপায়ে মশার কামড় থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না। এই অবস্থায় অনেকটা ‍দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

  • নগরীর উপশহর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল ওহাব সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘মশা নিধন করা জরুরী। কিন্তু কে করবে? এখন তো ভারপ্রাপ্ত মেয়র দিয়ে চলছে নগরী। তাহলে এ নগরীর কী হাল হতে পারে-সেটিই বুঝিয়ে দিচ্ছে মশা। মশাই যিনি মারতে মারেন না, তিনি আবার নগরীর উন্নয়ন করবেন কিভাবে-প্রশ্ন রাখেন আব্দুল ওহাব। 

 

তারপরেও তিনি মশা মারা অভিযান দ্রুত শুরু করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

photo-1430913605

এদিকে রাসিক সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে  জানায়, নগরের ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কোনো কার্যক্রম নেই বললেই চলে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে ড্রেনের পানি উপচে পড়ে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। আবার ড্রেনের ভিতরেও ময়লা-আবর্জনা জমে এককাকার। এতে নগরজুড়ে বেড়েছে মশার অত্যাচার।

 

  • রাসিক সূত্র সিল্কসিটি নিউজকে বলছে, সরকারের থেকে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে এই বেহাল দশা। বর্তমান মেয়রের ক্ষমতা গ্রহণের আগে প্রতি বছর ২৫-৩০ কোটি টাকার থোক বরাদ্দ পাওয়া যেত। সেই বরাদ্দ নেমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি টাকায়।এই টাকাও হচ্ছে হরিলুট। ফলে নগরীর উন্নয়নকাজ একেবারে থমকে আছে বললেই চলে। একজন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করায় তিনি ঠিকমতো বরাদ্দও তদবির করে আনতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন নগর সংস্থারই একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। 

এসব বিষয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন সিল্কসিটি নিউজকে জানান, এখন মশার প্রজননকাল চলছে। সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এবং মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত মশার প্রজনন হয়। এ সময় মশা মারার ওষুধের প্রয়োজন পড়ে। তবে আমরা দ্রুতই মশা নিধন অভিযান শুরু করবো।

 

স/আর