সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
ফেইসবুকে ১৭শ’ ভুয়া ইভেন্ট পেইজ চিহ্নিত করে সেগুলো বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে ফেইসবুক। এসব পেইজের বেশিরভাগ তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে।
বিভিন্ন আন্দোলন বা মিছিলে একই রকম টিশার্ট পরার রেওয়াজ আছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলো দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী।

গত ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হয় উইমেনস মার্চ। এতে অংশ নেন ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ। আগামী বছরও একই রকম একটি ইভেন্ট করার ঘোষণা দিয়েছে উইমেনস মার্চ অর্গানাইজেশন। কিন্তু তারিখ সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত কিছু জানায়নি সংস্থাটি। দিন-তারিখ ঠিক না হলেও ফেইসবুকে খোলা হয় ভুয়া কিছু ইভেন্ট পেইজ।
পেইজগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে মনে হবে যুক্তরাষ্ট্রের উইমেনস মার্চ অর্গানাইজেশনই পেইজগুলো তৈরি করেছে।
অনেক ফেইসবুক ব্যবহারকারীই ভুয়া দিন তারিখ ও নগণ্য সংখ্যক অংশগ্রহণকারী দেখে প্রথমে ধারণা করেছিলেন এর পেছনেও রাশিয়ার হাত রয়েছে। কারণ ২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন ভুয়া পেইজ খোলা হয়। সেখানে ভুয়া কিছু কনটেন্ট দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয় মার্কিন জনগণকে।
কিন্তু সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে রাশিয়া নয় এই সব পেইজের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। মার্কিনীদের রাজনৈতিক আবেগকে পুঁজি করে টিশার্ট বিক্রিই ছিলো মূল উদ্দেশ্য।
সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ভুয়া ইভেন্ট পেইজ বন্ধ করে ফেইসবুক। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। ইভেন্ট পেইজ বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে খোলা হয়েছে নতুন পেইজ।
সিএনএন জানিয়েছে, এসব পেইজের সঙ্গে ভাইরালস্টাইল ও টিস্প্রিংয়ের মতো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশ পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যে কেউ টি-শার্ট ডিজাইন ও বিক্রি করতে পারে।
এদিকে ‘ভাইরালস্টাইল বাংলাদেশ’ নামে একটি ফেইসবুক গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে সিএনএন। গ্রুপটি থেকে বাংলাদেশি ডিজাইনার ও বিপণনকারীরা বিক্রি বাড়ানোর পরামর্শ পেয়ে থাকেন।
ভুয়া ইভেন্ট খুলে টি শার্ট বিক্রির ব্যাপারে ‘ভাইরালস্টাইল বাংলাদেশ’ ব্যাপারে ফ্লোরিডা-ভিত্তিক ওই কোম্পানি বলেছে, একটি এলাকা থাকে বেশি সংখ্যক আগ্রহী উদ্যোক্তা পাওয়া গেলে আলাদা গ্রুপ করে দেওয়া হয়। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে টিস্প্রিংয়ের বক্তব্য হলো, তারা সরাসরি কোনো বিক্রয়কর্মী বা ডিজাইনার নিয়োগ দেয় না। বাংলাদেশ থেকে যারা টিস্প্রিংয়ে ডিজাইন দিচ্ছেন বা পণ্য সরবরাহ করছেন তারা কেউ তাদের নিয়োগ দেওয়া কর্মী নন। তারা প্রত্যেকেই কাজ করছেন নিজ উদ্যোগে।
সিএনএন অবলম্বনে









