অর্থ ও বাণিজ্য

ভালো করতে পারেনি নতুন প্রতিষ্ঠান

নিউজ ডেস্ক২৪ ডিসেম্বর ২০১৮৯ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক: 

উচ্চশিক্ষার প্রসারে গত এক দশকে অনুমোদন পেয়েছে ৫২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। অধিকসংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে ও খাতের সক্ষমতা বাড়াতে ২০১২ সালে অনুমোদন দেয়া হয়েছে নয়টি বেসরকারি ব্যাংক। বীমা খাতের নতুন প্রতিষ্ঠান এসেছে ১৫টি। চিকিৎসক তৈরিতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। যদিও নতুন এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নিজ নিজ খাতে ভালো করতে পারেনি।

শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের অভাবে শিক্ষার্থী আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। প্রায় ৮০ শতাংশ আসনই ফাঁকা থাকছে এসব উচ্চশিক্ষালয়ের। ভালো ব্যবসা করতে না পারলেও ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে নতুন ব্যাংক। নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর অনেকে প্রারম্ভিক মূলধন নিঃশেষ করে ফেলেছে। ব্যবসা না থাকায় একের পর এক শাখাও বন্ধ করছে নতুন এসব বীমা কোম্পানি। পর্যাপ্ত অবকাঠামো ছাড়াই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে নতুন অনুমোদন পাওয়া অনেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১০৩টি। এর মধ্যে গত এক দশকেই অনুমোদন পেয়েছে ৫২টি। গত এক দশকে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই আইন ও নীতিমালা অনুসরণ করছে না। এক বছরেও কোনো ধরনের সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল এবং ফিন্যান্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি, এমন তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বেশির ভাগই নতুন। শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়াই অনেকটা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়।

বেসরকারি খাতের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে নজর না দিয়ে নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমোদন দেয়াকে অযৌক্তিক বলছেন শিক্ষাবিদরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রসারে দেশে নামে-বেনামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর অধিকাংশই আসন অনুপাতে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন না দিয়ে উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত অবকাঠামো স্থাপনের মধ্য দিয়ে শিক্ষা ও গবেষণার মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ বাড়াতে হবে। আর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ব্যবসায়িক চিন্তা বাদ দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে মনোযোগী হতে হবে।

গত ১০ বছরে অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে ইউজিসি থেকে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায় প্রতিষ্ঠানটি। অনুমোদনের এক বছরেই অবৈধ সনদ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার বছর ২০১৪ সালের এপ্রিলে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামের অনুমোদন পায় রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি। সে অনুযায়ী চার বছর মেয়াদি ওই প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা ২০১৮ সালে। অথচ প্রোগ্রাম অনুমোদনের পরের বছর ১৭ মাসের মধ্যেই আবদুল মোতালেব হাওলাদার নামের এক শিক্ষার্থীকে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির সনদ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

অবৈধ সনদ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে খোদ উচ্চশিক্ষার তদারক প্রতিষ্ঠান ইউজিসির তদন্তে। রাজশাহী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির অবৈধ সনদ প্রদান বিষয়ে ইউজিসির এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর পাঁচ মাসের মধ্যে কীভাবে চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সের সনদ দেয়া হলো এবং ডিগ্রিপ্রাপ্ত ব্যক্তি বরিশাল সিটি করপোরেশনে কর্মরত অবস্থায় কীভাবে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ করলেন, সেসব প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। একইভাবে ৮৫ জনকে সনদ দেয়া হয়েছে বলেও কমিটিকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সুমন চন্দ্র দাস।

নানা অনিয়মে জড়িয়ে শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনেও ব্যর্থ হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ইউজিসির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির ৩ হাজার ৭৫০টি আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে মাত্র ৩৭৬ জন। অর্থাৎ আসনের ৯০ শতাংশই ফাঁকা থাকছে নতুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের।

একইভাবে ২০১৪ সালে অনুমোদন নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছে কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়টিরও অনুমোদন দেয়া হয়েছে রাজনৈতিক বিবেচনায়। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। এ বিশ্ববিদ্যালয়টির অনিয়ম নিয়েও তদন্ত করেছে ইউজিসি। ইউজিসির গত বছরের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুমোদনের দুই বছরেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেয়া হয়নি। রেজিস্ট্রার নিজেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়াদি দেখাশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট তার নামে এবং তিনিই সব চেক স্বাক্ষর করেন।

অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ২০১২ সালে অনুমোদন পাওয়া কুমিল্লার ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধেও। বোর্ড অব ট্রাস্টিজ নিয়ে দ্বন্দ্ব ও মামলা থাকায় ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করেছে ইউজিসি। ইউজিসির ওয়েবসাইটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ফাইভ স্টার দিয়ে রেড মার্ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে। একইভাবে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে ফরিদপুরের টাইমস ইউনিভার্সিটির বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সব মিলিয়ে ৪ হাজার ১ জন শিক্ষার্থী ও ২৮ জন শিক্ষক রয়েছেন। যদিও ইউজিসির এক তদন্তে এর চেয়েও খারাপ অবস্থা উঠে আসে।

এসব সত্ত্বেও নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রসারের তুলনায় গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি এটি সত্য। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম তদারকি করার দায়িত্ব ইউজিসির। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের এখতিয়ার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের।

নতুন ব্যাংক: ২০১২ সালে অনুমোদন দেয়া হয় নয়টি নতুন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে তিনটি প্রবাসীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হলো এনআরবি, এনআরবি কমার্শিয়াল ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক। দেশীয় উদ্যোক্তাদের নতুন ছয়টি ব্যাংক হলো ফারমার্স, মধুমতি, মেঘনা, মিডল্যান্ড, ইউনিয়ন এবং সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক।

১৬টি শর্তে নতুন এসব ব্যাংককে লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। যাত্রার ছয় বছরেও শর্ত পূরণের ধারে-কাছে যেতে পারেনি ব্যাংকগুলো। শর্ত ছিল কার্যক্রম শুরুর তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার। এখনো সে শর্ত পূরণ থেকে বহুদূরে ব্যাংকগুলো। লাইসেন্স পাওয়ার শর্ত ছিল ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত ৫ শতাংশ কৃষি খাতে বিতরণের। এখন পর্যন্ত ২ শতাংশ ঋণও কৃষি খাতে বিতরণ করেনি নতুন ব্যাংকগুলো। নিট মুনাফার অন্তত ১০ শতাংশ সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাতে ব্যয়ের শর্ত থাকলেও সেটা পূরণেও ব্যর্থ নতুন ব্যাংকগুলো।

নতুন নতুন ব্যাংক প্রডাক্ট চালু, বিদেশী বিনিয়োগকারী দেশে নিয়ে আসা, রেমিট্যান্স নিয়ে আসতে কার্যকর পন্থা উদ্ভাবনসহ যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন ব্যাংক লাইসেন্স নিয়েছিল, সেসব প্রতিশ্রুতিও ফিকে হয়ে এসেছে। উল্টো এখন পর্যন্ত বিদেশী বড় কোনো ব্যাংকের সঙ্গে করেসপনডেন্ট ব্যাংকিং শুরু করতে পারেনি এ ব্যাংকগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রসিদ্ধ ব্যাংকগুলো এ ব্যাংকগুলোর সঙ্গে লেনদেনে আগ্রহী নয়। এখন পর্যন্ত ভারতসহ কিছু দেশের তৃতীয় শ্রেণীর কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে নস্ট্রো হিসাব চালু করতে পেরেছে নতুন ব্যাংকগুলো। ফলে দেশের অন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই লেনদেন করতে হচ্ছে তাদের। নতুন ব্যাংকগুলোর দাবির মুখে এরই মধ্যে বেশকিছু শর্ত শিথিলও করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যবসায় সফলতা না পেলেও দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে নতুন ব্যাংকগুলো। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন ৯ ব্যাংকের ৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে। এর মধ্যে সংকটে থাকা ফারমার্স ব্যাংকের খেলাপি ঋণই ৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা। ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ৫৮ শতাংশই খেলাপি হয়ে পড়েছে। খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায় এ ব্যাংকগুলোর ভিত ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে।

এ ব্যাংকগুলোর সফলতা মূল্যায়নের চেষ্টাই বৃথা বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম।  বলেন, নতুন ব্যাংকের কোনো প্রয়োজনীয়তা ছিল না, এখনো নেই। নতুন ব্যাংকগুলোর অনুমোদন না দিলেও দেশের ব্যাংকিং খাতের যে বিকাশ হতো, এখনো তা-ই হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যাংকের নতুন শাখা খুলে ব্যাংকিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ আর নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়ে সম্প্রসারণ কখনো এক নয়।

বীমা: ২০১৩ সালে দুই দফায় লাইসেন্স পায় ১৫টি বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানি ১৩টি ও সাধারণ বীমা দুটি। নতুন জীবন বীমা কোম্পানিগুলো হলো এনআরবি গ্লোবাল, প্রটেক্টিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স, যমুনা লাইফ, স্বদেশ লাইফ, বেস্ট লাইফ, জেনিথ লাইফ, ট্রাস্ট লাইফ, মার্কেন্টাইল লাইফ, আলফা লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, সোনালী লাইফ ও গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এছাড়া নতুন অনুমোদন পাওয়া দুটি সাধারণ বীমা কোম্পানি হলো সিকদার ইন্স্যুরেন্স ও সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্যমতে, নতুন বীমা কোম্পানির ৮৮ শতাংশ ব্যবসাই তামাদি হয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে না জানিয়েই অননুমোদিত খাতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। বীমা কোম্পানির যেকোনো ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের বিধান রয়েছে। কিন্তু নতুন বীমা কোম্পানিগুলো গাড়ি কিনতে যে ঋণ নিয়েছে, তার কোনো অনুমোদন দেয়নি আইডিআরএ।

ব্যবসা ও নবায়ন প্রিমিয়াম আয় সেভাবে না থাকলেও শুধু ব্যবস্থাপনার কাজে প্রারম্ভিক মূলধনের ৪ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে নতুন অধিকাংশ জীবন বীমা কোম্পানি। মূলত বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় ও অফিস ভাড়া দিতেই এ অর্থ ব্যয় করেছে তারা।

বিভিন্ন জেলায় শাখা খুলে ব্যবসা করলেও তাতে সাফল্য পায়নি নতুন বীমা কোম্পানিগুলো। বাধ্য হয়ে একের পর এক শাখা বন্ধ করছে তারা। এমন একটি বীমা কোম্পানি চার্টার্ড লাইফ। দেশজুড়ে ১৫টি শাখা ছিল বীমা কোম্পানিটির। তবে রংপুর ও নোয়াখালীর শাখা দুটি বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একইভাবে ১৭টি শাখার মধ্যে খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কুমিল্লার পাঁচটি শাখা বন্ধ করে দিয়েছে প্রটেক্টিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স। দিনাজপুর ও বদরগঞ্জের দুটি শাখা বন্ধ করে দিয়েছে যমুনা লাইফ। চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ বেশকিছু অঞ্চলের ১৫টি শাখা বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বন্ধ হয়ে গেছে বেস্ট লাইফ ও এনআরবি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের প্রায় ১৫টি শাখাও।

বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, দক্ষ লোকবল সংকটের পাশাপাশি নতুন বীমা কোম্পানিগুলোর পলিসিতে নতুনত্ব নেই। ফলে গ্রাহক আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) এ ব্যাপারে ভূমিকা রয়েছে। নতুন কোম্পানিগুলোকে আরো সময় দিতে হবে। পাশাপাশি তারা কীভাবে ভালো করবে, তার জন্যও নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঠিক দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ: গত এক দশকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২৯টি। শিক্ষক সংকট, অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থী ভর্তি, জমি বা ফ্লোর স্পেস স্বল্পতা, শয্যা অনুযায়ী রোগীর স্বল্পতা, লাইব্রেরি ও শ্রেণীকক্ষের অভাব রয়েছে বেসরকারি এসব মেডিকেল কলেজে।

বিশিষ্ট মেডিকেল চিকিৎসা শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেডিকেল এডুকেশনের সিনিয়র অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় একদিকে অনিয়ম করে আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। আবার শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে না। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় এ ধরনের সমস্যা বিশেষ করে অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর ফলে দেশের মেডিকেল শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তৈরি হচ্ছে না দক্ষ চিকিৎসক, যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক চিকিৎসা সেবায়।

অপর্যাপ্ত অবকাঠামো নিয়ে কার্যক্রম চালানো বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর একটি মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুর ভুইয়া মেডিকেল কলেজ। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, হাসপাতালে পর্যাপ্তসংখ্যক রোগী, প্রয়োজনীয় শিক্ষক কোনোটিই নেই মেডিকেল কলেজটিতে।

মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না নিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির অভিযোগও রয়েছে গত এক দশকে অনুমোদন পাওয়া বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালার শর্ত পূরণ না করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় ২০১৬-১৭ সালে নয়টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ  বলেন, দেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মান এখনো ভালো হয়ে ওঠেনি। যেসব মেডিকেল কলেজ নির্ধারিত সময়ের পরও ভালো করতে পারেনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। তবে অনেকে আইনের আশ্রয় নিয়ে আবার তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সব সমস্যার সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।