সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
লাফিয়ে উঠে ভয় পাওয়া বা রক্তাক্ত দৃশ্য দেখা হয়তো আমাদের কাছে স্বস্তিকর মনে হয় না, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, উদ্বেগের সময় ভৌতিক সিনেমাই হতে পারে আদর্শ মানসিক চিকিৎসা। দার্শনিক থেকে শুরু করে মনোবিজ্ঞানীরাও দীর্ঘদিন ধরে ভাবছেন, মানুষ কেন ভয় পেতে ভালোবাসে। ভয়ের অনুভূতি তো আসলে আমাদের নিরাপত্তার জন্য, বিপদ এড়ানোর জন্যই বিকশিত। তাহলে কেন আমরা নিজেরাই ভয় খুঁজে বেড়াই?
অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মার্ক মিলার বলেন, ‘এটি এক পুরনো ধাঁধা।

অ্যারিস্টটলও একে বিস্ময়কর বলেছিলেন। আমরা ভয় থেকে পালাতে তৈরি, অথচ ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কাছেই ছুটে যাই।’
ভয় আমাদের কী শেখায়?
মনোবিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, ভয়াবহ গল্প আসলে আমাদের অনিশ্চিত বাস্তবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শেখায়। এসব গল্প আমাদের মস্তিষ্কে এমন প্রক্রিয়া সক্রিয় করে যা উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে।
অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোল্টান স্ক্রিভনার বলেন, ‘মানুষের ভয় পাওয়ার কৌতূহল আদিম। ভাষার মতোই পুরনো।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভয়ংকর গল্প আমাদের পৃথিবী বোঝার এক মাধ্যম। যেমন হরিণ দূর থেকে শিকারিকে দেখে শেখে কেমন বিপদ এড়াতে হবে, তেমনি মানুষ গল্পের মাধ্যমে ভয় চেনে নেয় ও মোকাবেলা করতে শেখে।
ভয় পাওয়ার তিন ধরন
স্ক্রিভনার এক গবেষণায় দেখেন, মানুষকে তিনটি দলে ভাগ করা যায়—
অ্যাড্রেনালিন জাঙ্কি : যারা ভয় পেয়ে আরো জীবন্ত বোধ করে।
হোয়াইট নাকলারস : যারা ভয়কে জয় করার অনুভূতি উপভোগ করে।
ডার্ক কপার্স : যারা ভয়াবহ দৃশ্য দেখে বাস্তব জীবনের সহনশীলতা বাড়াতে চায়।
তিনি আরো দেখেন, কোভিড মহামারির সময় ভৌতিক সিনেমার ভক্তরা বেশি মানসিক স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তারা বাস্তব বিপদের মুখে কম উদ্বিগ্ন থেকেছে।
ভয় থেকে থেরাপি
ভয় কেবল বিনোদন নয়, থেরাপির অংশও হতে পারে। নেদারল্যান্ডসে মাইন্ডলাইট নামে এক ভিডিও গেম শিশুদের উদ্বেগ কমাতে ব্যবহার করা হয়। গেমে ভৌতিক দৃশ্য থাকলেও, খেলোয়াড় যত শান্ত থাকে, তত আলো বাড়ে। এতে শিশুরা ভয়কে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এই গেমের মাধ্যমে শিশুরা উদ্বেগ মোকাবিলায় বাস্তব জীবনে আরো সক্ষম হয়েছে। যেমনটা কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপির ফল দেয়। স্ক্রিভনার বলেন, ‘ভয়াবহ গল্প মানুষকে নিরাপদ পরিবেশে ভয় অনুভবের সুযোগ দেয়, যা মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায় ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন করায়।’
ভয়কে বন্ধু বানানো
যদি কেউ ভয়াবহ গল্প বা সিনেমা এড়িয়ে চলেন তাহলে হয়তো তিনি কিছুটা মানসিক প্রশান্তি হারাচ্ছেন। ধীরে ধীরে নিজের স্বস্তির সীমা ছাড়িয়ে ভয়ের সিনেমা দেখতে শুরু করা জরুরি। বই দিয়ে শুরু করা যেতে পারে কারণ বইয়ে কল্পনাকে যে কেউ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ভয়াবহ গল্পের মধ্যে এমন থিম খুঁজে নিন, যা আপনার পছন্দের সঙ্গে মেলে। ভৌতিক গল্পের জগৎ বিশাল, এখানে বিজ্ঞান, সমাজ, প্রেম, রহস্য সবই আছে। আপনার কৌতূহলপ্রবণতা আপনাকে ভয় দেখাতে নয়, বরং সাহসী করে তুলতে পারে। হয়তো অবাক হয়ে দেখবেন, এই ভয়ই আপনার মনের শান্তির এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
সূত্র : বিবিসি









