সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
প্রচলিত পোশাকের চেয়ে দাম কয়েকগুণ বেশি। বাজারও বাড়ছে দ্রুত। তাই সম্ভাবনাও অনেক। তৈরি পোশাকের বিশ্বে দ্বিতীয় রফতানিকারক দেশ হলেও দামি ফ্যাশন পণ্যের এই বাজারে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। খবর ডয়চে ভেলে।
২০১৭-১৮ অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৬১ কোটি ডলার। এর মধ্যে শার্ট, ট্রাউজার, জ্যাকেট, টি-শার্ট, সোয়েটার- এ ৫টি পণ্য থেকেই এসেছে ২ হাজার ২৪০ কোটি ডলার। বাংলাদেশে পোশাক রফতানির ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বরাবর এই পণ্যগুলোরই দখলে থাকে, বিশ্ববাজারে যার দাম তুলনামূলক কম। এই বাজারে পোশাক সরবরাহকারীদের প্রতিযোগিতাও বেশি।

বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান মনে করেন, বাংলাদেশের মোট পোশাক রফতানির ৯০ ভাগই এখন এমন পণ্যের দখলে। বাকি ১০ ভাগ ফ্যাশনেবল বা দামি পণ্য, যার আকার দাঁড়াচ্ছে ৩০০ কোটি ডলারের মতো। অথচ এই পণ্যের বিশ্ববাজার ১৫ হাজার কোটি ডলারের বেশি বলে জানান তিনি।
দামি বা শৌখিন পোশাকের এই বাজার প্রতিবছরই বাড়ছে। বিশ্বের ফ্যাশন শিল্পের ট্রেন্ডস নিয়ে প্রতিবছর প্রতিবেদন প্রকাশ করে ‘ম্যাককেনসি অ্যান্ড কোম্পানি’। তাদের ‘দ্য স্টেইট অব ফ্যাশন-২০১৯’ অনুযায়ী চলতি বছর পোশাকের বাজার ৪ থেকে ৫ ভাগ বাড়বে। আর লাক্সারি বা বিলাসবহুল পণ্যের বাজার বাড়বে ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে বিলাসবহুল পণ্য ব্যবহারকারীর ৭০ শতাংশ বলছেন, তারা টেকসই ভাবে উৎপাদিত পোশাকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বেশি দাম দিতেও রাজি আছেন। দামি পোশাকের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতকারক চীন। বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে তাদের রফতানি আদেশের কিছুটা বাংলাদেশ ধরতে পারবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা হচ্ছে তুরস্কের।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফ্যাশন প্রযুক্তি ম্যাগাজিনের সম্পাদক মুচানেতা কাপফুন্দের মতে, ২০২০ সালের মধ্যে স্মার্ট ফেব্রিক্স দিয়ে তৈরি ফ্যাশনের বাজারের আকার দাঁড়াবে ১৩ হাজার কোটি ডলার। এই ধরনের পোশাকের বড় আকারের উৎপাদন এখনও সেভাবে শুরু হয়নি। যারা এখন থেকেই প্রস্তুতি নেবে তারাই এই বাজারে এগিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
একটি সাধারণ পোলো শার্ট রফতানি করলে ৩ ডলার দাম পাওয়া যায়। সেখানে সুতা, কাপড়ের মান ভিন্ন হলে কিংবা বাড়তি এমব্রয়ডারি, প্রিন্টিং, ওয়াশ যুক্ত হলে দাম পাওয়া যায় কমপক্ষে আট ডলার, বলছিলেন বাংলাদেশের জায়ান্ট অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান।
গত কয়েক বছর ধরে তিনি প্রচলিত পোশাকের বাইরে এমন দামি আর ফ্যাশনেবল পণ্য তৈরি ও রফতানির চেষ্টা করছেন। তার মতে, বাংলাদেশের অনেক তৈরি পোশাক কারখানার উদ্যোক্তাই এখন ফ্যাশনেবল ও দামি পোশাকের এই বাজার ধরার চেষ্টা করছেন। আবার নতুন অনেক কারখানাই গড়ে উঠছে শুধু এ ধরনের পোশাক তৈরির জন্য। কিন্তু বাজারটি ধরতে কিছুটা বেগও পেতে হচ্ছে।
পোশাকের দাম কেমন হবে তা নির্ভর করে কাপড়ের ধরন আর ডিজাইনের ওপর। তুলা ছাড়াও বিভিন্ন উদ্ভিদের পাতা, মাশরুমসহ নানা জৈব উপাদান থেকেও এখন সুতা তৈরি হয়। সেগুলো দিয়ে তৈরি কাপড়ের পোশাকের দাম হয় বেশি। আবার সাধারণ শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্টের তুলনায় বিশেষায়িত বাহিনীগুলোর ইউনিফর্মধর্মী পোশাকও বেশি দাম দিয়ে কেনেন ক্রেতারা। এর বাইরে আছে স্কোর্টস আর অ্যাথলেটিক আইটেমও। স্যুট-ব্লেজারধর্মী পোশাকেও কয়েকগুণ বেশি দাম পাওয়া যায় বলে জানান ফারুক হাসান। বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পোশাকেও তার ছোঁয়া লাগছে। যুক্ত হচ্ছে সেন্সর, ডিভাইস বহন করা যায় এমন সুবিধা। থ্রিডি প্রিন্টারসহ আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যেও এখন পোশাক তৈরি হয়।
এমন ‘স্মার্ট পোশাকের’ বাজারও দিন দিন বাড়ছে। দামি পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি মূল্য সংযোজনের প্রয়োজন হয়। এজন্য টেকনোলজিক্যাল আপগ্রেডেশন জরুরি বলে জানান বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর মধ্যে ২১ ভাগ মাত্র এই প্রযুক্তিগত ‘আপগ্রেডেশন’ করেছে। তার মতে, এই ২১ ভাগ কারখানা যে কোনো ক্রেতার চাহিদা মেটাতে বা উচ্চ মূল্যের পোশাক তৈরিতে সক্ষম। তবে শুধু উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতেই নতুন করে বিশেষায়িত অনেক কারখানা গড়ে উঠছে বলেও জানান তিনি।
বিজিএমইএ ওয়েবসাইটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় সাড়ে চার হাজার কারখানা রফতানির সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে প্রায় আড়াইশ’ এখন উচ্চ মূল্যের পোশাক রফতানি করছে বলে জানান ফারুক হাসান। ভালো পণ্য তৈরি করলেই বিক্রি হবে না। কান্ট্রি ব্র্যান্ডিংটাও এক্ষেত্রে জরুরি। বিষয়টির সঙ্গে একমত প্রকাশ করে ড. মোয়াজ্জেম বলেন, ওভারঅল আমরা ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। কিন্তু হাই ভ্যালু প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো জরুরি। সেটার জন্য বন্দরের প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকা জরুরি।









