নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) এক প্রকৌশলীর বাধ্যতামূলক অবসর ও দুজনের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। একইসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা একটি তদন্ত কমিটির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। গত বুধবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৫ মার্চ বিএমডিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম খানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। এছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম রেজা ও সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে ২৭ মার্চ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কৃষি মন্ত্রণালয়। উচ্চ আদালত এই বাধ্যতামূলক অবসর, সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠনের মন্ত্রণালয়ের আদেশ স্থগিত করেছেন।

গত ২৩ মার্চ একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী গিয়ে বিএমডিএ’র সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে দপ্তর ছাড়তে বাধ্য করেন। এরপর হেনস্থার অভিযোগে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন শফিকুল ইসলাম। পরে ১৩ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম উল্লেখ করে তিনি মামলাও করেন। মামলায় অজ্ঞাত অসাামি করা হয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে। কোনো তদন্ত ছাড়াই শফিকুল ইসলামের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর দুইদিন পর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়। ছয় সদস্যের এই কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির আহ্বায়ক ও উপসচিবকে সদস্য সচিব করা হয়েছিল।
নথিপত্রে দেখা গেছে, তদন্ত কমিটি ৪১ জনকে ঘটনার সাক্ষী হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। আগামী রোববার (১৩ এপ্রিল) তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়েছিল। সাক্ষীদের তালিকায় ছিলেন আটজন ঠিকাদারও। এছাড়া ঘটনার দিন ভারতে অবস্থান করা প্রকৌশলী, লালমনিরহাট ও নাটোরের প্রকৌশলী এবং আওয়ামীপন্থী কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সাত্তারসহ ওই সংগঠনের বেশকিছু সদস্যকে সাক্ষী করা হয়েছিল।
আবার সাবেক ইডি শফিকুল ইসলামের অনুগত বিএমডিএ’র এক নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনার দিন ছিলেন ভারতে, তাকেও সাক্ষী করা হয়। নাটোর ও লালমনিরহাটের প্রকৌশলী, যারা ঘটনার দিন রাজশাহীতেই ছিলেন না তাদেরও সাক্ষী করা হয়। এছাড়া কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কিছু ঠিকাদারকে সাক্ষ্য দিতে রাজি করানো হয়েছিল।
বিএমডিএ’র ওই তিন প্রকৌশলীর আইনজীবি ফরিদুল ইসলাম জানান, যেসব স্মারকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে বাধ্যতামূলক অবসর, দুই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল; সেসব স্মারকের আদেশগুলো উচ্চ আদালত ছয়মাসের জন্য স্থগিত করেছেন। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করছিল, এটি উচ্চ আদালতকে জানানো হয়েছে। তাই তদন্ত কমিটি গঠনের আদেশও স্থগিত করা হয়েছে।
স.আর









