সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:
বাড়ির উঠানে তাকালে মনে হয় বিশাল পুকুর। সেখানে ফুটে আছে শাপলা।
রয়েছে শ্যাওলা, কলমি এমনকি লম্বা ঘাসও জন্মেছে। উঠানের ওপর দিয়ে তৈরি বাঁশের সাঁকো। এক বাড়ি থেকে আরেক বাড়ি যেতে সাঁকো না থাকলে ভাঙতে হবে কোমর পানি।
এই দৃশ্য বাগডাঙ্গা ও মনোহরনগর গ্রামের প্রায় সব বসতবাড়িতে।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার গ্রাম দুটিতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে জলাবদ্ধতা। মৌসুমের বৃষ্টিপাতে পানি সরার ব্যবস্থা না থাকায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে ওই দুই গ্রামের অন্তত আড়াই শ পরিবার।
শনিবার সরেজমিন গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ বাড়ির উঠানে পানি।
পানির ভেতর দিয়েই চলছে বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজ। গরু-ছাগল নিয়েও রয়েছে মানুষ বিপাকে।
বাসিন্দারা জানান, গ্রাম দুটিতে মোট ৩৮৭টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে ২৫০ পরিবার এখন জলাবদ্ধতার শিকার।
বাগডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পিনু রানী সরকার (৭০) বলেন, আষাঢ় মাসের প্রথম দিন থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আমাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা চলছে। বছরের প্রায়ই সময় বাড়ির উঠানে পানি জমে থাকে। বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকোয় ভরসা করতে হয়। জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় মশার উপদ্রবও বেড়েছে বলে জানান তিনি।
মনোহর নগর গ্রামের বাসিন্দা নমিতা সরকার বলেন, ‘জলাবদ্ধতা শুরুর পর থেকে গরু-ছাগল নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’ একই গ্রামের নির্মল রায় বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় সাপের ভয় বেড়েছে।’
পাঁজিয়া ইউনিয়নপরিষদের সদস্য বৈদ্যনাথ সরকার বলেন, গ্রাম দুটিতে ৩৮৭ পরিবার বাস করে। এর মধ্যে ২৫০টি পরিবার এখন পানিবন্দি। বাড়ি থেকে বের হতে তাদের বাঁশের সাঁকো তৈরি করতে হয়েছে। দীর্ঘ বছর ধরে তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা চলায় গাছ-গাছালি মরে সাবাড় হয়ে গেছে।
পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রূপালী রানী বলেন, বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রামে অতিবৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দুই মেট্রিক টন ত্রাণের বেশিরভাগ ওই গ্রামের মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আবারও এক মেট্রিক টন চাল এসেছে। এরও বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম দুটিতে বরাদ্দ দেওয়া হবে।









