রাজশাহী

বসন্তের লাল-হলুদে ভাসছে রাজশাহী

নিউজ ডেস্ক১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৭৩ মিনিট পড়া

অমিত হাসান: ভোরের আলো ফোটার আগে কোকিল পাখির ডাক মনে করিয়ে দিয়েছে এসেছে বসন্ত। কবি সুভাস মূখোপাধ্যায় বসন্তের আগমনীতে যেন অনুরাগ নিয়েই লিখেছেন `ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত’।

ফুল প্রকৃতির এক অপরূপ সোন্দর্যের প্রতিচ্ছবি। ফুল যেনো তার রূপের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছে প্রকৃতিতে। শুধু তাই নয়, ফুল যে ভালো লাগে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। ফুল কার না ভালো লাগে। তার পরে আবার বিশেষ দিন। প্রকৃতিতে শীতের আমেজ না কাটলেও গাছে গাছে বিভিন্ন বর্ণের নতুন ফুল জানিয়ে দিচ্ছি ঋতুরাজ বসন্তে কথা। এই বসন্তের ফুলগুলো যেনো উৎসব আর দিবসগুলোতে ঘিরে। উৎসব আর দিবসগুলোতে বিভিন্ন রঙ ও বর্ণের ফুলগুলো আরো মাত্রা যোগ করে।

ফুল ভালোবাসে না- এমন কে আছে? কার অন্তর না মাতে ফুলের শুবাসে! বাঙ্গালির জীবনাচরণে, সংস্কৃতির পরতে পরতে ছড়িয়ে আছে ফুলের সৌরভ। পহেলা ফাল্গুনে খোঁপায় তাজা ফুল গুঁজবে না এমন তরুণী খুঁজে পাওয়া যাবে না। আবার পরদিন ভালোবাসা দিবস। তাই বসন্তের হলুদ আর ভালবাসার লাল ফুলে ভাসছে রাজশাহী।

আজ পহেলা ফাল্গুন, কাল ভালোবাসা দিবস।তারই ছোঁয়া লেগেছে ফুলের বাজারে।ফুলে দোকান গুলোতে জমজমাট হয়ে উঠেছে কেনা-বেচা। তাই আজ সকাল থেকেই ফুলের দোকানে ভীড়। চুলের বেনী আর মাথার  রিং বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানীরা।

প্রতিবারের ন্যায় এবারও রাজশাহীতে বেশির ভাগ ফুল যশোরের গদখালিতে থেকে আনা হয়েছে। এসব দিন গুলোতে সারা দেশে ফুলের চাহিদা ব্যপক হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি। তাছাড়া পরিবহন খরচ ফুলের বান্ডিল প্রতি অন্য সময়ের থেকে বেড়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। তার পরেও বেচা কেনায় তেমন প্রভাব পড়বে না এমনটিই বলছেন নগরীর ফুল ব্যবসায়ীরা জানান।
এবারে পহেলা ফাল্গুন,  বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে ফুলপ্রতি  ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।  আজ পহেলা ফাল্গুন,  হলুদের দিন তাই গাঁদা ফুলের চাহিদা বেশী যা বিক্রী হয়েছে ১০০পিস গাঁদাফুল ৫০ টাকা, যা আগে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রয় করা হত।

এছাড়া রজনীগন্ধা প্রতিটি ৭ থেকে ১০টাকা, গোলাপ ফুল ৫ থেকে ২০ টাকা, গ্যালোডিয়াস ২০ থেকে ২৫ টাকা। এছাড়া মেয়েদের সাজের জন্য পাহাড়ি ব্যান ১৫০ টাকা, গজরা ৫০ তেকে ১০০টাক ও প্রতিটি  ফুলের ডালা ও তোরা বিভিন্ন দামে বিক্রয় করা হচ্ছে। আর আগামীকাল বিশ্ব ভালবাসা দিবসের জন্য প্রস্তুতিও চলছে ব্যপক হারে।

নগরীর সাহেব বাজার বিসমিল্লাহ ফুল ভান্ডারের প্রোপাইটর সুইট সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, এসব দিন গুলোতে ফুলের দামটা ও পরিবহন খরচ একটু বেড়ে যায়। তাতে ফুল প্রেমী মানুষের চাহিদার কমতি নাই।

নিউ ফেন্ডস ফুল ভান্ডারের প্রোপাইটর এমরান বলেন, ফাল্গুনের প্রথম দু’দিনকে  বসন্ত বরণ ও ভালবাসা দিবস পুঁজি করেই ফুল চাষীরা অতিরিক্ত দাম নিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই রাজশাহীতে সব ফুলের দাম বেড়েছে।

গিফট ফুল কর্ণারের প্রোপাইটর শ্রী সন্তোস কুমার সিল্কসিটিনিউজকে বলেন, আমাদের কাজ কাল রাত থেকে শুরু হয়েগেছে চলবে আগামীকাল মঙ্গলবার  পর্যন্ত। এ দিন গুলোতে খুচরা ফুলের চাহিদাই বেশী থাকে।

রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে ফুল কিনতে আসা প্রিয়াংকা সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের দাম অনেক বেড়ে যায়। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বরং গত বছর যে গোলাপ ৫ থেকে ১০টাকায় কিনেছেন এবার তা কিনতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫টাকা পিচ।

সাহেব বাজারে ফুল কিনতে আসা তারেক মাহমুদ বলেন, এবারে রাজশাহীতে ফুল তেমন আসেনি।এবার সব ফুলের দাম বেড়েছে দিগুণ। কিন্তু দাম যতই হোক কিনতে তো হবেই।আর ফুলকে মূল্যের সাথে বিচার করা যাবে না।

আজ বসন্ত।রাত পোহালেই ভালোবাসা দিবস।দিবস দুইটি উপলক্ষে রাজশাহীর বাজারে পর্যাপ্ত ফুল আমদানী করেছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ফুল দিয়ে নানা প্রাকৃতিক অলঙ্কার সাজাতে রং বেরঙ্গের ফুল কিনতে ব্যস্ত রমনীরা। একদিকে ফুলের সুবাশ অন্যদিকে হিমেল বাতাস। সব মিলিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে রাজশাহীর প্রকৃতিতে যেন অনন্য এক আমেজ বিস্তার করছে।

 

স/আ