রাজশাহী

বন্ধ হয়ে গেছে রাউধার ‘ইন্সট্রাগ্রাম’ পেজটি: গলায় আঙ্গুলের দাগ-দাবি বাবার

নিউজ ডেস্ক৭ এপ্রিল ২০১৭৪ মিনিট পড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাউধা ইন্সট্রাগ্রামে জনপ্রিয় ছিলেন। তার ২৭৩ জন ফলোআর ছিল ঘটনার একদিন আগ পর্যন্ত। কিন্তু তাঁর লাশ যেদিন উদ্ধার হয়, সেদিন একজন ফলোআর কমে যায়। এর পরের দিন আরো একজন ফলোআর কমে যায়। তার পরের দিন ইন্সট্রাগ্রাম থেকেই রাউধার আইডি টা অকেজো (ইনেক্টিভ) করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ইন্সট্রাগ্রামে  রাউধার পেজ  https://www.instagram.com/raudhaathif/ দেখতে চাইলে ‘পেজ নট ফাউন্ডেট’ বলতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাউধার বাবা মোহাম্মদ আতিফ মা আমিনাথ মুহারমিমাথ।

 

এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক রহস্য। রাজশাহী মহানগর পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাউধার মৃত্যুর পরে তাঁর দুজন ফলোআরকে আনফ্রেন্ড করা এবং দুদিন পরে পেজটিই ইনেক্টিভ করে দেওয়ার বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তুলেছে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের। এতে ধারণা করা হচ্ছে কোনো একজন রাউধার ইন্সট্রাগ্রমের আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতো। সেই হয়তো তাঁর মৃত্যুর পরে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

  • রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ ছাত্রী ও মডেল রাউধা আথিফ আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চিকিৎসক বাবা মোহাম্মদ আথিফ। এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। রাউধার মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন এবং আইনের আশ্রয় নিতে বাবা এবং মা আমিনাথ মুহারমিমাথসহ পরিবারের পাঁচ সদস্য এখনো রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন।

 

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে রাউধার বাবা মোহাম্মদ আথিফ বলেন, ‘রাউধা আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার গলায় আঙুলের দাগ ছিল। কিন্তু চিকিৎসকরা সেটিকে জন্মগত দাগ বলছেন। তার গলায় জন্মগত দাগ থাকতে পারে না। থাকলে আমরাই ভালো জানতাম। আমরা মনে করি রাউধা আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই আমরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্তের জন্য আইনের আশ্রয় নেব। এমনকি বিচার পেতে আইনের আশ্রয় নেব। সেটি করতে গিয়ে আমরা মামলাও করব। এর জন্য আমরা সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ’

বাবা মোহাম্মদ আথিফ আরো বলেন, ‘আমরা রাউধার মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাঁরা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম আমাদের সঙ্গে কোনো কথাও বলেননি। তবে কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদলের সদস্য এমদাদুর রহমান জানিয়েছেন রাউধা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু তাঁর এ দাবি আমরা মানি না। কারণ রাউধার গলায় আত্মহত্যার গোলাকার দাগের বাইরেও কিছু আঙুলের (ফিঙ্গার) চিহ্ন ছিল। যাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। ’

 

  • মোহাম্মদ আথিফ আরো বলেন, ‘আমরা ওই দাগের কথা চিকিৎসক এমদাদুর রহমানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের বলেছেন এটা জন্মগত দাগ। তবে তাঁর ওই কথা হাস্যকর। কারণ আমাদের মেয়ের গলায় দাগ ছিল, আর আমরাই সেটি জানব না?’

 

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. আথিফ বলেন, ‘বাবা হিসেবে নয় চিকিৎসক হিসেবে আমি আমার মেয়ের মরদেহ দেখেছি। আর আমিও ফরেনসিক মেডিসিন পড়েছি। রাউধার মরদেহ দেখে মনে হয়নি যে সে আত্মহত্যা করেছে। ’

  • রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার আল-আমিন বলেন, ‘আমরা রাউধার মৃত্যুর বিষয়টিকে ফিফটি ফিফটি অবস্থান নিয়ে আপাতত তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি আত্মহত্যা করলে কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন, তার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি। আবার তাঁকে যদি হত্যা করা হয়, তাহলে অন্য কোথাও হত্যা করা হয়েছে কি না, বা ওই ঘরেই হত্যা করা হয়েছে কি না, এর সঙ্গে কারা জড়িত থাকতে পারে—সেসব বিষয় খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি। কিন্তু হত্যা নাকি আত্মহত্যা দুটির একটিরও এখন পর্যন্ত কোনো কারণ খুঁজে পাইনি আমরা। ’

 

প্রসঙ্গত, গত ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাউধা আথিফের (২০) ঝুলন্ত মৃতদেহ রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল কলেজের হোস্টেলের ২০৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায়। রাউধা ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি গত বছর জানুয়ারিতে মালদ্বীপ থেকে রাজশাহীতে আসেন ডাক্তারি পড়তে। তিনি আন্তর্জাতিক মডেল ছিলেন।

স/আর