জাতীয়

বছরের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি

নিউজ ডেস্ক১৬ মার্চ ২০২৪৪ মিনিট পড়া

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক

দিনদিন অস্থিরতা বাড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। পণ্যের কোনো ঘাটতি না থাকলেও বেশির ভাগ পণ্যের দাম আগের বছরের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী। গত রমজান থেকে এ রমজানে এক বছরের ব্যবধানে কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

বছরের অন্য সময়গুলোতে নির্দিষ্ট পণ্যের দাম উঠা-নামা করলেও বিশেষ করে রমজানে নিত্যপণ্যের দরদাম নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছরই সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা আগেভাগে শুরু করে হাঁকডাক। ভোক্তাকে খুশি করতে ‘মজুত পর্যাপ্ত, বাড়বে না দাম’ এমন বক্তব্য দেন। কিন্তু কখনোই কথার সঙ্গে কাজের মিল খুঁজে পাওয়া যায় না।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে, যা গত বছর ছিল ৩০-৩৫ টাকা।

কাওরান বাজারে সাধারণ জাতের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫০০-১১০০ টাকা কেজিতে, যা গত রমজানে ছিল ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। টিসিবি’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম ১০৮ শতাংশ, রসুন (আমদানি) ৪৩ শতাংশ, আদা (দেশি) ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

বছরের ব্যবধানে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে
বাজারে সব নিত্যপণ্যের দর অস্বাভাবিক, টালমাটাল। টিসিবি’র দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে মসুর ডাল (বড় দানা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৮-১১২ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১২.৮২ শতাংশ। পাশাপাশি বর্তমানে মসুর ডাল (মাঝারি দানা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১১০-১১৫ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৮.৮৯ শতাংশ। বর্তমানে ছোলা (মানভেদে) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৮৫-৯০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশ।

বর্তমানে আলু (মানভেদে) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১৬-২০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০৮.৩৩ শতাংশ।

বাজারে পেঁয়াজ (দেশি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকয়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ২৫-৩৫ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১৮৩.৩৩ শতাংশ। পাশাপাশি বর্তমানে পিয়াজ (আমদানি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২২৮.৫৭ শতাংশ।

বাজারে রসুন (দেশি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২৭.২৭ শতাংশ। পাশাপাশি বর্তমানে রসুন (আমদানি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৪২.৮৬ শতাংশ।

আদা (দেশি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০-২৮০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৮০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৬০.৬১ শতাংশ। পাশাপাশি বর্তমানে আদা (আমদানি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১২০-২৮০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ১২.৫০ শতাংশ।

বর্তমানে চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১১৫-১২০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২১.২৮ শতাংশ।

বর্তমানে খেজুর (সাধারণ মানের) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৪৫০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ১৫০-৪৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২১.৬৭ শতাংশ।

বর্তমানে গরুর মাংস প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৩০-৭৮০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৭২০-৭৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ২.৭২ শতাংশ। মুরগি (দেশি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৫৫০ টাকায়। এক বছর আগে বিক্রি হয়েছে ৪৫০-৫৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে ৫ শতাংশ।

বছরের ব্যবধানে যেসব পণ্যের দাম কমেছে
সবকিছুর দাম বাড়লেও ব্যতিক্রম শুধু কয়েকটি পণ্য। টিসিবি’র দাম পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমানে মুরগি (ব্রয়লার) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০-২২০ টাকায়। আর এক বছর আগে পণ্যটি বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকা। বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে ১২.২৪ শতাংশ।

আটা সাদা (খোলা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ৫৮-৬০ টাকা। সেই হিসেবে দাম কমেছে ১৯.৪৯ শতাংশ। আর আটা (প্যাকেট) দাম কমেছে ১৩.৫৩ শতাংশ।

সয়াবিন তেল (লুজ) প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৪৮-১৫৫ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ১৬৮-১৭২ টাকা। দাম কমেছে ১০.৮৮ শতাংশ। সয়াবিন তেল (বোতল) ৫ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৭৮০-৮০০ টাকায়। এক বছর আগে ছিল ৮৭০-৮৮০ টাকা। দাম কমেছে ৯.৭১ শতাংশ। তবে টিসিবি’র বাজার দরের সঙ্গে চলমান বাজার দরের খুব কমই মিল পাওয়া যায়।

ট্যাগ: