প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও একাকীত্ব
নিউজ ডেস্ক২৯ জুলাই ২০২৫২ মিনিট পড়া
সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক :
একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, ১৩ বছরের আগেই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করা শিশুদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, আত্মসম্মান হ্রাস, উদ্বেগ ও আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার ঝুঁকি থাকে। জার্নাল অফ হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ক্যাপাবিলিটিস-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, অল্প বয়সে যেসব শিশু স্মার্টফোন পায়, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
মেডকেয়ার কামালি ক্লিনিকের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট শ্রীবিদ্যা শ্রীনিবাস বলেন, আমরা ৮-৯ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেও উদ্বেগ, মেজাজের অস্থিরতা, ঘুমের ব্যাঘাত ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকার লক্ষণ দেখছি, যা অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত।
সেইজ ক্লিনিকের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ তেজিম ধানজিও বলেন, আমরা এমন এক প্রজন্মকে দেখছি যারা অতিরিক্ত উত্তেজনা, অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেড়ে ওঠছে। একটি সচেতনতামূলক প্রচারণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮৪ শতাংশ আরব আমিরাতের শিক্ষার্থী প্রতিদিন ৭ ঘণ্টার বেশি সময় ডিভাইসে কাটায়, যা তাদের আচরণে আগ্রাসন, একাকীত্ব তৈরি করছে।
ড. অ্যালিসন বারোজ, মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি দুবাইয়ের সিনিয়র লেকচারার বলেন, দুবাইয়ের মতো জায়গায় শিশুরা অনেক কম বয়স থেকেই বড়দের মতো প্রযুক্তির সংস্পর্শে আসে, ফলে মানসিক ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। তবে প্রযুক্তিকে দানব বানানোর বদলে বয়সভিত্তিক গাইডলাইন ও অভিভাবকদের শিক্ষা দেওয়া জরুরি।
ট্যাবলেট এখন অনেকের জন্য তাৎক্ষণিক বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা ও সৃজনশীল সময় কমে যাচ্ছে, যা তাদের শরীর ও মনের উপর প্রভাব ফেলছে। মনোযোগের ঘাটতি, ঘুমের সমস্যা, স্ক্রিন থেকে আলাদা করতে না পারা শিশুদের আচরণে সমস্যা তৈরি করছে। অভিভাবকেরা অনেক সময় দোষী বোধ করেন কারণ স্ক্রিন অনেক সময় ডিজিটাল বেবিসিটার হয়ে ওঠে।
স্ক্রিন আসক্তি একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ। তাই ডিজিটাল ওয়েলবিং, পিতামাতার নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির দিকেই আমরা জোর দিচ্ছি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে প্রযুক্তি সংস্থা, সরকার, শিক্ষাবিদ ও পরিবার সবার একসঙ্গে কাজ করা জরুরি।