চারঘাট প্রতিনিধি :
প্রকৃতিতে শরতের শ্র্রভ্রতার সঙ্গে আসছে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। শিশির ভেজা ভোর আর শরতের কাশফুল জানান দিছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা। হিন্দু ধর্মালম্বীদের বড় এ উৎসব ঘিরে চারঘাটে প্রতিমা তৈরিতে কারিগররা ব্যাস্ত সময় পার করছেন।

মৃৎশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোয়ায় প্রতিমা গুলো হয়ে উঠেছে অপরুপ। একই সঙ্গে শরতের দুর্গোৎসবকে পরিপুর্ণভাবে সাজাতে দিন-রাত মন্দির গুলোতে চলছে ব্যাপক প্রস্ততি। মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিবছরই তারা অধীর আগ্রহে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির কাজের অপেক্ষায় থাকেন। শুধু জীবিকার জন্যই নয়। দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাদের ধর্মীয় অনুভূতি, ভক্তি আর ভালোবাসা।
উপজেলার বেশ কয়েকটি পূজামন্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ খড়,সুুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা হছে দেবীদুর্গার প্রতিমা। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তৈরি হ”ছে দেবীদুর্গা, লক্ষী,স্বরসতী,কার্তিক, অসুরসহ বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা।
চারঘাট কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির পূজা মন্ডপে দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরি করছেন শ্রী বকুল কুমার সাহা। এবারের দুর্গোৎসবে এখানকার সহ মোট ২৫ টি প্রতিমা বানা”েছন তিনি। সিল্কসিটি নিউজকে তিনি জানান, সর্বনি¤œ ২৫ হাজার টাকা থেকে সর্বো”চ ৩৫ হাজার টাকায় এসব প্রতিমা বানানো হ”ছে। তিনি আরো বলেন এখনই বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। পূজার আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তাই দম ফেলার সময়ও নেই। এর মধ্যেই দেবীদুর্গার প্রতিমা তৈরির সব কাজ শেষ করতে হবে।
এ বছর উপজেলাজুড়ে ৩৮টি পূজা মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে পৌর এলাকায় ১০টি ও গ্রামীণ এলাকায় ২৮টি। বাঙালি হিন্দুর উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয় ষষ্ঠীর আগে থেকেই। এবারের দুর্গাপূজা ২৮ সেপ্টেম্বর (১৪ আশি^ন) ষষ্ঠীপূজা দিয়ে শুরু করে ২ অক্টোবর (১৮ আশি^ন) বিজয়া দশমী দিয়ে শেষ হবে। আগে পঞ্চমী থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ। তবে ষষ্ঠী থেকেই কার্যত উৎসবের ঢাকে কাঠি পড়া শুরু হয়। শাস্ত্রমতে দুর্গাপূজোর মহাষষ্ঠীর দিন বোধন হয়।
দুর্গাপূজার আয়োজন নিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ চারঘাট উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রাহুল কান্তি ঘোষ সিল্কসিটি নিউজকে বলেন, ‘পূজায় সর্বস্তরের মানুষের সমাগম ঘটবে। এটা যেমনি হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধমীয় উৎসব তেমনি এতে অন্য ধর্মের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। তাই সব কথা মাথায় রেখে সকল পূজামন্ডপ গুলোতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, দুর্গোৎসব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দুর্গোৎসব যেন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বো”চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। প্রতিটি মন্ডপে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি র্যাবের টহল থাকবে।









