অর্থ ও বাণিজ্য

প্রতারণায় নাকাল ভোক্তা

নিউজ ডেস্ক১০ মার্চ ২০১৯২ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

ভোক্তারা প্রতিদিন প্রবঞ্চার শিকার হচ্ছেন পণ্য বা সেবা কিনে। হাতের কাছে অভিযোগ করার সুযোগ না পেয়ে প্রতারণাকে মেনে নিয়েই নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছেন।

অধিক মুনাফার আশায় কারসাজি করে ক্রেতাদের কাছে আসলের নামে ভেজাল পণ্য, টাটকার নামে বাসি খাবার, পণ্যের যথাযথ মানের অভাব ও ওজনে কম দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারিত করা হচ্ছে।

এসব বিষয়ে প্রতিকারের জন্য রয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতর। তাদের কাছে অভিযোগ করলে প্রমাণসাপেক্ষে তারা ব্যবস্থা নেয়। কিন্তু হাতের কাছে ভোক্তা অধিকার অধিদফতরের কোনো অফিস পাওয়া যায় না। ক্রেতাকে অনেক পণ্যের বিপরীতে কোনো রশিদ দেয়া হয় না- ফলে অভিযোগ করা যেমন জটিল তেমনি প্রমাণ করাও কঠিন। এসব কারণে অনেকেই প্রতারণার ঘটনা নিয়ে অভিযোগ করতে যাচ্ছেন না।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক শফিকুল ইসলাম লস্কর বলেন, গোপন সংবাদ এবং ভোক্তার অভিযোগের ভিত্তিতে নকল-ভেজাল রোধে অধিদফতর থেকে সারা দেশে সপ্তাহে ৫ দিন দুটি করে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বিভিন্ন সংস্থার পরিচালিত অভিযানের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগে এলাকাভিত্তিক ছোট ছোট ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নকল-ভেজালের মতো অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নামিদামি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান ভেজাল দিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। এ কারণে বাটা, আগোরা ও স্বপ্নের মতো অনেক বড় কোম্পানিকে অধিদফতরের জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ মার্চ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭৪৬টি অভিযানের মাধ্যমে ভোক্তার সঙ্গে নানা অনিয়মে ৫৫ হাজার ৯৩টি প্রতিষ্ঠানকে ৪৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ভোক্তারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে। সরকার ভোক্তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য যে আইন করেছে সে ব্যাপারে ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে।

তিনি বলেন, ভোক্তারা যতই সচেতন হবে, আইনি ব্যবস্থা ততই জোরদার করা হবে- ভোক্তারা উপকৃত হবেন। এতে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণায় লাগাম টানা যাবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (উপ-সচিব) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, যেখানেই অনিয়ম পাব সেখানেই ভোক্তা আইনের মধ্যে এনে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করব। যাতে ভোক্তারা তাদের নিজ অধিকার নিয়ে পণ্য ক্রয় করতে পারেন।