অর্থ ও বাণিজ্য

পুনঃতফসিলের ঋণ ফের খেলাপি

নিউজ ডেস্ক৩০ মে ২০১৯৩ মিনিট পড়া

সিল্কসিটিনিউজ ডেস্ক:

খেলাপি ঋণ কমাতে ব্যাংকগুলো নানা সুবিধা দিয়ে বিপুল অঙ্কের ঋণ পুনঃতফসিল করে থাকে। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ কমার বড় কারণ ঋণ পুনঃতফসিল ও অবলোপন। তবে হতাশার বিষয় হল, নানা ছাড় দিয়ে পুনঃতফসিল করা ঋণের গড়ে ১৩-৪৩ শতাংশ পর্যন্ত আবার খেলাপি হচ্ছে।

২৮ মে প্রকাশিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে গত পাঁচ বছরে ঋণ পুনঃতফসিলের একটি চিত্র দেয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে ব্যাংকগুলো ২৩ হাজার ২১০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। আগের বছর হয়েছিল ১৯ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে ছিল ১৫ হাজার ৪২০ কোটি টাকা, তার আগের বছর ১৯ হাজার ১৪০ কোটি টাকা এবং ২০১৪ সালে ১২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল হয়।

আর গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ১০ শতাংশ অন্তত একবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল বৃদ্ধির প্রবণতা ব্যাংক খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট পুনঃতফসিল করা ঋণের ২৭ শতাংশ আবার অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০১৮ সালের জুনে যা ৩৩ শতাংশে দাঁড়ায়। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে পুনঃতফসিল করা ঋণের ২৯ শতাংশ খেলাপি হয়ে পড়ে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৪ সালে এককালীন জমা বা ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল, ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধিসহ নানা সুবিধা দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের বছর আবার বিশেষ বিবেচনায় ১৫ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করা হয়। বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হলেও খেলাপি ঋণ না কমে বাড়ছে। এক বছরে খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা বেড়ে গত ডিসেম্বর শেষে ৯৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা হয়েছে।

এসব সুবিধা দিয়ে খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলেও গত ২১ মে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলে আরও বড় ছাড় দিয়ে একটি সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টের বিপরীতে ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়। যেখানে সুদহার হবে মাত্র ২ শতাংশ। তবে আগামী ২৪ জুন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সার্কুলারের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন আদালত।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল করা ঋণের ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ হচ্ছে শিল্পঋণ। তৈরি পোশাক খাতের রয়েছে ২৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ৪৩ দশমিক ১০ শতাংশ। মোট খেলাপি ঋণের সর্বোচ্চ ২৮ দশমিক ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক ঋণ। তৈরি পোশাকের ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ রয়েছে খেলাপি। এ ছাড়া বড় শিল্পের ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কৃষিভিত্তিক শিল্পে ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ, টেক্সটাইলের ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, নির্মাণ খাতে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে মোট ঋণের ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ খেলাপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০১৮ প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে ঋণ ও আমানতের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের প্রতি আহ্বান জানান।